

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অষ্টম শ্রেণি পাস যোগ্যতায় গ্রাম পুলিশ নিয়োগ। তবু নিয়োগ ঘিরে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের গুঞ্জন, তদবিরের চাপ এসবের মাঝেও তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের কঠোর বার্তা, 'পরীক্ষার মতোই পরীক্ষা হবে, বিনা পয়সায় চাকরি হবে'। আর সেই কঠোরতার প্রমাণ মিলল বাছাই পরীক্ষায় জাতীয় সংগীত শুদ্ধভাবে লিখতে না পারায় অংশ নেওয়া ৩৮ জন প্রার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক অবস্থানের জন্য প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু।
গতাকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে চারটি ইউনিয়নের পাঁচটি মহল্লাদার পদে নিয়োগের লক্ষ্যে বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া সদর, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়নে মোট ৩৮ জন প্রার্থী আবেদন করে পরীক্ষায় অংশ নেন।
এদিকে তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথমে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। এরপর নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেধা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ১৫ মিনিট সময় দিয়ে জাতীয় সংগীত লিখতে বলা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থীই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে পারেননি। ফলে কাউকেই উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়নি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই বলছেন, গ্রাম পুলিশের মতো দায়িত্বশীল পদে ন্যূনতম সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের ধারণা থাকা অপরিহার্য।
অন্যদিকে, কোনো ধরনের তদবির বা আর্থিক প্রভাবকে তোয়াক্কা না করে মেধার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ইউএনও ও সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করছেন সচেতন মহল।
ইউএনও ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, শারীরিক যোগ্যতা যাচাই শেষে মেধা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কোনো প্রার্থীই আমাদের জাতীয় সংগীতটি সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের প্রাথমিক ধারণা থাকা আবশ্যক। জাতীয় সংগীতের মতো মৌলিক বিষয়ে এমন অজ্ঞতা আমাদের হতবাক করেছে।।
এদিকে ঘটনার আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পর তিনি ফেসবুকে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেন, গ্রাম পুলিশ নিয়োগে কোনো ধরনের তদবির বা অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না—যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, তিরনইহাট ইউনিয়নে ১০ জন, তেঁতুলিয়া সদরে ৫ জন, শালবাহান ইউনিয়নে ৮ জন এবং দেবনগর ইউনিয়নে ১৫ জনসহ মোট ৩৮ জন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় অষ্টম শ্রেণি পাস। মেধা ও সততার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নেওয়ায় ইউএনওর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের কাছে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
