

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মেহেরপুরে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী রেজাউল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে অতিরিক্ত ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. গোলাম কবির দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী রেজাউল ইসলাম মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামের বাসিন্দা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম রায় ঘোষনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া সন্দেহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল।
এই রায়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় আদালত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর মেহেরপুর গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামে স্বামী তার শশুর বাড়ির পাশে একটি পুকুর পারে স্ত্রী জাহানারা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ফেলে রাখেন রেজাউল ইসলাম। হত্যার পর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তিনি লাশ গোপন করার চেষ্টাও করেন এবং স্বাভাবিক মৃত্যুর গল্প সাজানোর উদ্যোগ নেন।
ঘটনার পর নিহত জাহানারা খাতুনের মা কহিনুর বেগম জামাতা রেজাউল ইসলাম কে আসামী করে গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তকারী কর্মকতা এসআই মাহাতাব তদন্তের সময় ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, নিহত জাহানারা খাতুনের মৃত্যু শ্বাসরোধে হত্যা। পাশাপাশি প্রতিবেশী ও স্বজনদের সাক্ষ্য এবং আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মামলায় অপরাধ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকতা আদালতে স্বামী রেজাউল ইসলাম কে অভিযুক্ত করে চার্জশিট প্রদান করেন।
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘বিবাহের ২৫ বছর পরও স্ত্রীর পরকীয়া সংক্রান্ত সন্দেহ ও দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরেই তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। ঘটনার পর প্রথমে বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করলেও পরে তিনি সত্য স্বীকার করেন।’
মন্তব্য করুন
