

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আমরা এমন বিরোধী দল চাই না, যাদের জেলে থাকতে হয় বা ১০১টি মামলা নিয়ে ঘরছাড়া থাকতে হয়। পরাজিত যেসব প্রার্থীরা থাকবেন তারাও সেসব দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। আমরা চাচ্ছি বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশ যেভাবে উচ্চকক্ষ ও বিরোধী দলের সহায়তায় সরকার পরিচালনা করা হয় সেইভাবে দায়িত্বশীল সরকার আমরা চাই। অতএব এক ব্যক্তি শাসক এবং একদলের শাসক থেকে আমরা মুক্তি চাই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে (বিজয় মেলার মাঠে) গণভোটের প্রচারণা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার করছি এবং এর যৌক্তিকতা তুলে ধরছি। আমরা কাউকে হ্যাঁ বা না ভোট দিতে বাধ্য করছি না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভিত্তি তিনটি তা হচ্ছে বিচার, নির্বাচন ও সংস্কার। বর্তমান পরিবর্তন না এলে আগামী নির্বাচন ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হতো এবং সেটিও কেমন হতো তা জনগণ জানে। এবার এই নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত, অবাধ ও সুষ্ঠু। জনগণ নির্ভয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির বলেন, এলপিজি ব্যবসার ৯৮ শতাংশই বর্তমানে বেসরকারি খাতে পরিচালিত হচ্ছে, সরকারের হাতে রয়েছে মাত্র ২ শতাংশ। সাম্প্রতিক সংকটের বিষয়ে তিনি জানান, এলপিজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে পূর্বে ব্যবহৃত জাহাজে এলপিজি আনা সম্ভব না হওয়ায় জাহাজ সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুদ ধীরে ধীরে কমে আসছে। এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার এলএনজি আমদানি করছে। তবে বিদ্যমান দুটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) দিয়ে সর্বোচ্চ ১১৮টি কার্গো আনার সক্ষমতা থাকলেও এ পর্যন্ত ১০৯টি কার্গো আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি এলএনজি আমদানির জন্য নতুন একটি এফএসআরইউ স্থাপনের লক্ষ্যে বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতার বিষয়ে ফাওজুল কবির জানান, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো দল বা প্রার্থী নেই। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণকে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। প্রথম ব্যালটে দেওয়া ভোট পাঁচ বছরের প্রতিনিধি নির্ধারণ করবে, আর গোলাপি ব্যালটে দেওয়া ভোট আগামী ২০ থেকে ৫০ বছরের জন্য জাতির ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করবে। এই গণভোটের মাধ্যমে আমরা কোন পথে যাবো সেটিই নির্ধারিত হবে।
এর আগে, জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গণভোটের প্রচার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন
