বুধবার
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জাপুরে বিদ্যালয়ের প্রাচীর নির্মাণে বাধা–হামলার অভিযোগ, আহত দুই

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
বিদ্যালয়ের প্রাচীর নির্মাণে বাধা
expand
বিদ্যালয়ের প্রাচীর নির্মাণে বাধা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অভিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারপাশে প্রাচীর নির্মাণের সময় বাধা, গালিগালাজ ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিদ্যালয় কমিটির সহ-সভাপতিও আহত হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমি নিয়ে বিরোধের দাবি তুলেছে অপর পক্ষ। এদিকে জেলা শিক্ষা প্রশাসন বলেছে, তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সরকারি নির্দেশনায় বিদ্যালয়ে প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বিবাদী নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করেন। অভিযোগে বলা হয়, নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে বিবাদী কুদ্দুস ফকির ও শুকুর ফকিরের নের্তৃত্বে বিদ্যালয়ের কমিটির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান (৬৫) ও নির্মাণশ্রমিক সাইফুল (২৫) এর ওপর লাঠি-সোটা নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে খলিলুর রহমান মাথায় লাঠির আঘাতে রক্তাক্ত জখম হন এবং সাইফুল পিঠে গুরুতর আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে ক্ষোভ দেখা দেয়। ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অভিযোগকারী আকতার হোসেন বলেন, “সরকারি নির্দেশনায় প্রাচীর নির্মাণ কাজ চলছিল। বাধা ও হামলায় দুইজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-অভিভাবক ও এলাকাবাসী বলেন, বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রাচীর নির্মাণ জরুরি হলেও হামলা ও বাধা দুঃখজনক। তারা মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কাজ নিয়ে এমন পরিস্থিতি শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে।

এদিকে বিবাদীরা জমি সংক্রান্ত বিরোধের দাবি তুলে বলেন, প্রাচীর নির্মাণের অংশটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর পড়েছে। তাদের দাবি, জমির মালিকানা নিশ্চিত না করেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। “আমাদের জমি বুঝিয়ে দিলে তারা কাজ করতে পারে। কিন্তু ভূমি নিয়ে বিরোধ থাকা অবস্থায় কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছি,”—দাবি করেন বিবাদী পক্ষের একজন।

ভূমি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যালয় সংলগ্ন জমি নিয়ে অতীতে একাধিকবার মৌখিক অভিযোগ উঠেছিল। তবে তা কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিরোধ গড়ে ওঠে। ফলে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হলে পুনরায় বিরোধ প্রকট হয়ে ওঠে।

বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হারুনুর রশীদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা চলছে। জমি সংক্রান্ত উল্লেখিত বিষয়সহ পুরো ঘটনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষা বিভাগের পাশাপাশি থানা প্রশাসনের সঙ্গেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিক আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঘটনার পর থেকে মির্জাপুরে এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে। উন্নয়ন কাজ, জমির মালিকানা ও প্রশাসনিক অনুমোদনকে কেন্দ্র করে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে তা দ্রুত সমাধানের দাবি উঠেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X