শনিবার
২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাত্র ৩০ মিনিটে কবি লিখেন ‘রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬, ০২:০৩ এএম
এনপিবি গ্রাফিক্স
expand
এনপিবি গ্রাফিক্স

বাংলার আকাশে রোজার ঈদের চাঁদ উঠলেই প্রতিটি ঘরে ও অলিতে-গলিতে প্রতিধ্বনিত হয় সেই অমর সুর ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’। কিন্তু এই গান রচনার পেছনে লুকিয়ে আছে ছয় মাসের লড়াই, উপেক্ষা ও অদম্য বিশ্বাসের গল্প।

শিল্পী আব্বাসউদ্দীন একটি ‘পাগলাটে’ আবদারের মাধ্যমে কবি কাজী নজরুল ইসলাম-কে অনুরোধ করেন বাংলা ইসলামি গান রচনার জন্য। কবি রাজি হলেও বাদ সাধে তৎকালীন গ্রামোফোন কোম্পানি। ‘ব্যবসায় লালবাতি জ্বলবে’—এই ভয়ে দীর্ঘ ছয় মাস আব্বাসউদ্দীনকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কোম্পানির রিহার্সেল-ইন-চার্জ ভগবতী বাবু।

অবশেষে একদিন ভগবতী বাবুর মন গলে। সুযোগ আসতেই এক ঠোঙা পান আর চা নিয়ে নজরুলের ঘরে হাজির আব্বাসউদ্দীন। রুদ্ধদ্বার ঘরে মাত্র ৩০ মিনিটের সাধনায় কবি লিখে ফেললেন ইতিহাসের সেই অমোঘ পংক্তিমালা। দুই মাস পর রোজার ঈদ। গান লেখার চার দিনের মধ্যে রেকর্ডিং হয়ে গেল।

গানটি চলবে কি না, এই নিয়ে গ্রামোফোন কোম্পানিও ছিল শঙ্কায়। তবে কাজী নজরুল ইসলাম বেশ রোমাঞ্চিত। গানটি কীভাবে গাইতে হবে, তিনি সেটা আব্বাসউদ্দীনকে দেখিয়ে দেন। হারমোনিয়ামের ওপর আব্বাসউদ্দীনের চোখ বরাবর কাগজটি ধরে রাখলেন কাজী নজরুল ইসলাম নিজেই। আব্বাসউদ্দীন গানটি গাইলেন। এরপর তিনি ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেলেন। ফিরে এসে দেখেন শহরের সবার মুখে মুখে এই গান।

আব্বাসউদ্দীন প্রথমবারের মতো ইসলামি গান রেকর্ড করেন, যা বাজারে এলেই সকলের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। কিশোর থেকে যুবক, সবাই গানটি গেয়ে ঈদের আনন্দকে আরও জীবন্ত করে তুলেছেন। এই গানই আজও বাঙালির ঈদ উদ্‌যাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে টিকে আছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন