

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যার পর ২০ জনের বেশি মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের খোঁজে দুর্গম এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের রেঞ্জাররা।
রোববার (৩০ আগস্ট) ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানায়, শনিবারের বন্যার পর ২০ জনের বেশি ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজদের সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার বিকেলে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ভেতরের দুর্গম অংশে কলোরাডো নদীর তীরবর্তী ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এলাকায় হঠাৎ বন্যা দেখা দেয়। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হলেও ক্যানিয়নের এই অংশে পৌঁছানো এবং সেখান থেকে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা বেশ কঠিন।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার ওই এলাকায় থাকা হাইকারদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁদের ক্যাম্পগ্রাউন্ডে থাকার বুকিং ছিল কিংবা ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক করিডোর ব্যবহার করেছিলেন, তাঁদের সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে।
উদ্ধারকাজে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের সঙ্গে অ্যারিজোনা ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি কাজ করছে। রোববার সকাল পর্যন্ত ফ্যান্টম র্যাঞ্চ ও লোয়ার নর্থ কাইবাব ট্রেইল এলাকা থেকে ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো আহত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে বন্যার পানির স্রোতে ক্যানিয়নের যোগাযোগব্যবস্থা ও ট্রেইল অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু ভেঙে গেছে। ফলে হাইকারদের ওই জলধারা পার হওয়ার পথও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্যান্টম র্যাঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং নর্থ কাইবাব ট্রেইল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।
কলোরাডো নদীর ওপর থাকা ব্ল্যাক ব্রিজ ও সিলভার ব্রিজও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্যার পানিতে ধাতব কাঠামো ও বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ নদীতে ভেসে আসায় সেখানে নৌযান চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে নতুন করে আকস্মিক পানির স্রোত, ধ্বংসাবশেষ নেমে আসা এবং পাহাড়ি এলাকায় পাথরধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের এই বন্যা নতুন করে উদ্ধার তৎপরতার চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। নেপালে গত সপ্তাহে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বড় ধরনের প্রাণহানির খবরের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নেও বন্যার ভয়াবহতা সামনে এল।


