মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
expand
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের অর্থনীতি ‘ধসিয়ে দেওয়ার মতো’ নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (২৪ আগস্ট) তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার এই প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

এ বিষয়ে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ভোরের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হচ্ছে একটি ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’। তিনি একে কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া সবচেয়ে বড় আর্থিক আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

গত সপ্তাহে সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেছিলেন, ইরানের অর্থনীতি ‘ধসিয়ে দিতে’ যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রসহ অন্য দেশগুলোকেও ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য চাপ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

নতুন নিষেধাজ্ঞার সফলতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র ও ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বেসেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়তে পারে।

গত সপ্তাহে তিনি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা মিত্র ও অন্যান্য পক্ষকে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অথবা ইরানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বার্তা দেন।

এতে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডও কাজ করছে।

ইরানের বন্দরগুলো দিয়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও পণ্য চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে নিষেধাজ্ঞার আওতা, কোন কোন দেশ বা প্রতিষ্ঠান এতে পড়বে এবং তা কীভাবে কার্যকর করা হবে, এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি।

নতুন মার্কিন পদক্ষেপ নিয়ে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপের একটি লক্ষ্য হতে পারে দেশটির বর্তমান সরকারকে দুর্বল করা।

তিনি এমন সময়ে ইরানি শাসনব্যবস্থার সম্ভাব্য পতনের কথা বলেছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কর্মকর্তারা আগে জানিয়েছিলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি নয়।

ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞা শুধু ইরানের নীতি পরিবর্তনে চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে, নাকি দেশটির শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যও রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ‘শত্রুর যুদ্ধের’ নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার উপায় তেহরানের রয়েছে।

ইরানের দাবি, দেশটি বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে সহজেই অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মাত্রার অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকি দিয়েছিলেন। ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও বড় ধরনের আর্থিক শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।

ফলে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর ওপরও চাপ বাড়তে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন