

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কীভাবে এমন ঘোষণা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিউইয়র্কে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরান ‘খুব খারাপভাবে পরাজিত’ হচ্ছে। দেশটিকে পরাজিত করার পরই হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন তিনি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের আগে থেকেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে দাবি করেছিলেন, প্রণালীটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে সক্ষম বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে ইরান এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করত। চলমান সংঘাতের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিন মাত্র কয়েকটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করছে, যেখানে যুদ্ধের আগে দৈনিক চলাচল ছিল ১৩০টিরও বেশি জাহাজ। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিবর্তে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মোতায়েনের প্রস্তুতির কথাও প্রকাশ্যে এসেছে।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, প্রণালীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদেরই। মার্কিন পক্ষের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রসর হওয়ার ব্যাপারেও তেহরান অনড় অবস্থানে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার ট্রাম্পের বক্তব্য বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। প্রণালীটি ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এবং এর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নেই। তাই শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণায় জলপথটি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

