মঙ্গলবার
২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যৌথভাবে হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করবে: ট্রাম্প

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
expand
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালী খুব শিগগিরই আবার খুলে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মিলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অগ্রসর হলে হরমুজ খুব দ্রুত খুলে দেওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যৌথভাবে পরিচালিত হতে পারে। তিনি এমনও মন্তব্য করেন যে, ইরানের বর্তমান বা পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করেই এই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা যেতে পারে। ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি হরমুজ প্রশ্নকে এখন শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবেও দেখছেন।

একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্ব নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর যাকে নতুন নেতৃত্বে আনা হয়েছে বলে আলোচনা চলছে, তাকে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করছেন না।

বরং তার দাবি, ইরানের ভেতরে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন, যারা “যুক্তিসংগত” এবং “প্রভাবশালী”; ভবিষ্যৎ বোঝাপড়ায় তাদের কারও ভূমিকা থাকতে পারে। এই বক্তব্যে তেহরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব প্রশ্নেও ওয়াশিংটনের কৌশলগত আগ্রহের ইঙ্গিত মিলেছে।

এর আগে ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই সময়ের মধ্যে অগ্রগতি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি।

তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই অবস্থান কিছুটা নমনীয় করে তিনি পাঁচ দিনের জন্য সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। ওয়াশিংটনের দাবি, এ সময়ের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপের কড়া জবাব দিয়েছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের উপকূল, দ্বীপ বা জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা হলে পুরো পারস্য উপসাগর কার্যত অবরুদ্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

এমনকি বিভিন্ন সামুদ্রিক রুটে নৌ-মাইন বসানোর কথাও জানানো হয়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের বক্তব্য অনুযায়ী, নিজেদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে তারা হরমুজ ও আশপাশের জলপথে কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রাম্প আলোচনার কথা বললেও ইরান সরাসরি এমন কোনো সংলাপের কথা স্বীকার করেনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বলছে আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে, কিন্তু ইরান সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমনের আভাস মিললেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীকে ঘিরে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

একদিকে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত, অন্যদিকে যুদ্ধের হুমকি-এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হরমুজ এখন বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন