

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো ধরনের সংলাপ চলছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ইরান।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাতে আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যে আলোচনার কথা বলেছেন, তা বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়। বরং তেহরানের দাবি, ওই বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় নেওয়া।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উত্তেজনা প্রশমনে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ইরানের মতে, যেসব দেশ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের উচিত সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথা বলা। কারণ, এই সংঘাতের সূচনাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করছে তেহরান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা আগামী পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সেই পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বৈরিতা নিরসনে “খুব ভালো ও ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে। তার ভাষায়, উভয় পক্ষের মধ্যে একটি বিস্তৃত ও সার্বিক সমাধান নিয়ে কথাবার্তা এগোচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এই আলোচনা পুরো সপ্তাহজুড়ে চলবে। পাশাপাশি তিনি যুদ্ধ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন, চলমান যোগাযোগের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ রাখতে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই ইরান তা সরাসরি অস্বীকার করল। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটন আলোচনা চলছে বলে দাবি করছে, অন্যদিকে তেহরান বলছে-এমন কোনো সংলাপ আদৌ হচ্ছে না।
এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা সাময়িকভাবে কিছুটা থামার ইঙ্গিত মিললেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পরবিরোধী অবস্থান পরিস্থিতিকে এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রেখেছে।
মন্তব্য করুন
