

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশভাগের সাত দশকের বেশি সময় পরও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধন অনেক ক্ষেত্রে অটুট রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন আটকে থাকা বিয়ের জট খুলতে বিশেষ ব্যবস্থায় ১৫০ জন পাকিস্তানি সিন্ধি কনে ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা দিয়েছে ভারত।
ভারত ও পাকিস্তানে বসবাসকারী সিন্ধি সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিয়েশাদি ও সামাজিক যোগাযোগের সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ সিন্ধি হিন্দু ভারতে চলে এলেও তারা নিজেদের শিকড় ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ধরে রেখেছেন।
দুই দেশের সিন্ধি জনগোষ্ঠীর মধ্যে আগে ওয়াগা-আত্তারি সীমান্ত দিয়ে সহজেই যাতায়াতের সুযোগ ছিল। এ পথে নিয়মিত বিয়ে ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা-যাওয়া করতেন অনেকে। পাকিস্তানি সিন্ধি নারীদের সাথে ভারতীয় সিন্ধি পুরুষদের এবং ভারতীয় নারীদের সাথে পাকিস্তানি সিন্ধি পুরুষদের বিয়ের ঘটনাও ছিল নিয়মিত।
তবে গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতির কারণে পরিস্থিতি বদলে যায়। পেহেলগাম হামলার পর ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চালালে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এরপর পাকিস্তানি সিন্ধি দর্শনার্থীদের জন্য ভিসা ও সীমান্তপথে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
এর ফলে বাগদান সম্পন্ন হলেও শত শত পাকিস্তানি সিন্ধি নারী ভারতে এসে বিয়ে করতে পারছিলেন না। দীর্ঘ আলোচনা ও উদ্যোগের পর অবশেষে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের মধ্যে ১৫০ জন কনে ও পরিবারের সদস্যদের ভারতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানি সিন্ধি অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা সামাজিক নেতা রাজেশ ঝাম্বিয়া জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর আটকে থাকা কনে ও তাদের স্বজনরা এখন ভারতে যেতে পারছেন। তবে তাদের স্থলপথের পরিবর্তে আকাশপথে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ওয়াগা-আত্তারি সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেলে অনেক বিয়ে আটকে যায়। পরে ছত্তিশগড়ের রায়পুরভিত্তিক সন্ত যুধিষ্ঠিরলাল শাদানির সহযোগিতায় ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হয়।
শাদানি দরবারের পক্ষ থেকে তৈরি করা তালিকায় এমন প্রায় ১৫০ জন কনের নাম ছিল, যাদের ভারতের নাগপুর, রায়পুর, যোধপুর, পুনে ও অন্যান্য শহরে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। পরে তাদের ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
রাজেশ ঝাম্বিয়া জানান, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে পাকিস্তানের এসব কনে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা দুবাই, ওমান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে বিমানে ভারতে পৌঁছেছেন।
তবে পাকিস্তানে এখনো একই ধরনের আরও প্রায় ৩০০ নারী অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের জন্যও ভারত সরকারের কাছে ভিসা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।


