

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনিতে টানা ১৭ দিন ধরে পানির সংযোগ বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে কয়েকটি বাতিস্তম্ভের আলোও। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কলোনির বাসিন্দাদের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
কলকাতা করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় ৫০০ সংখ্যালঘু পরিবারের বসবাস। তাদের অনেকেই ৫০ থেকে ৭০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় সেখানে বসবাস করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ২৯ জুলাই হঠাৎ করে কলোনির পানির সরবরাহ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তবে কারা এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বিজেপির পক্ষ থেকেই এ কাজ করা হয়েছে।
সমস্যার সমাধানের জন্য স্থানীয় নেতাদের কাছে ধরনা দেওয়ার পর কয়েকটি বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে পানির সংযোগ এখনো ফেরেনি।
দীর্ঘদিন পানির সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কলোনির বাসিন্দারা। অনেকে বাধ্য হয়ে কলোনির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা থেকে পানি নিয়ে রান্নার কাজে ব্যবহার করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থান থেকে দূষিত পানি গঙ্গায় পড়ছে। সেই পানি ব্যবহার করে গোসল করায় অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়ছেন।
পানির সংকট মোকাবিলায় কিছু বাসিন্দাকে দূরের এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ করে আনতে হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, এভাবে আর কতদিন চলতে হবে?
বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের কলোনি থেকে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নাগরিক সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে সংবাদ প্রকাশে অনীহা রয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। বিজেপির স্থানীয় নেতারাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে সদ্য অনুষ্ঠিত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে কাশীপুর-বেলগাছিয়া আসনে জয়ী হয়েছেন বিজেপির রিতেশ তিওয়ারি। নির্বাচনের পর তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, সংখ্যালঘুরা তাকে ভোট দেননি। তাই সংখ্যালঘুদের জন্য তিনি কোনো কাজ করবেন না। তার এমন বক্তব্যের পর জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে পানির সংযোগ বন্ধ থাকলেও তা পুনরায় চালুর বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কলোনির বাসিন্দারা।


