

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলাম যে শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবতার ধর্ম—এই বার্তা ইতালির মূলধারার সমাজে তুলে ধরতে রোমে ‘ওপেন ডে কর্মসূচি আয়োজন করেছে তরপিনাত্তারা মুসলিম সেন্টার (টিএমসি)। স্থানীয় অমুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় ভ্রান্ত ধারণা দূর করে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রচার করাই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইতালিতে বসবাসকারী মুসলিমদের অমুসলিম প্রতিবেশী, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ইতালীয় নাগরিকরা বিপুল উৎসাহে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বেচ্ছাসেবীরা অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান এবং ইতালীয় ভাষায় ইসলামের মূল আদর্শ ও সেন্টারের কার্যক্রম ব্যাখ্যা করেন।
মুসলিম ছাত্রদের সংগঠন সেন্ত্র জোভানিলে দি রোমা (সিজিআর)-এর অংশগ্রহণে সেন্টারে আগত দর্শনার্থীদের জন্য হিজাব, কুরআনে বিজ্ঞানের অবস্থান, ঈদ এবং ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ নিয়ে পৃথক স্টল সাজানো হয়। অতিথিদের বিভিন্ন কৌতূহলী প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেন সিজিআর-এর সদস্যরা।
এতে অংশগ্রহণকারীরা ইসলাম সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এছাড়া ইসলামী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীতে অমুসলিম অতিথিরা নিজেদের নাম আরবিতে লিখিয়ে নিতে বিশেষ আগ্রহ দেখান।
পরে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল কনফারেন্স শুরু হয়। কনফারেন্সে সিজিআর-এর টারমিনি জোন টিম লিডার নুমায়ের আহনাফ পাওয়ার পয়েন্ট প্রদর্শনীর মাধ্যমে মুসলিমদের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অমুসলিম অতিথিরা এই আয়োজনকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও শিক্ষণীয় বলে অভিহিত করেন। তরা বলেন আজ এখানে এসে মুসলিমদের জীবনধারা, বিশ্বাস ও মূল্যবোধ সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পেয়েছি। খ্রিষ্টান ও মুসলমানরা বহু বছর ধরে একই সমাজে বসবাস করছি।
এ ধরনের ওপেন ডে আমাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধন আরও দৃঢ় করে। সমাজে মসজিদ যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে, তা আজ স্পষ্টভাবে দেখতে পেলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে ইতালিয়ান নও-মুসলিম সারা বুলিওনে ইসলামে নারীর অধিকার, শান্তির বার্তা এবং ধর্মীয় উৎসবের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন লা সাপিয়েন্সা ইউনিভার্সিটির ইতিহাস ও নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক কারমেলো রুচ্ছো এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিষয়ক গবেষক মারতা সালদোনে। স্থানীয় গির্জার প্রতিনিধিরা খৃষ্টান ও ইসলাম ধর্মের সহাবস্থান এবং মসজিদের ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে তাদের মূল্যবান অভিমত ব্যক্ত করেন।
এসময় আয়োজকরা বলেন, এই ধরনের আয়োজন পারস্পরিক ভুল ধারণা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ওপেন ডে ও সামাজিক সংলাপমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
মন্তব্য করুন
