

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রকৃতির প্রাচীন নিয়ম অ্যান্টার্কটিকার বরফে ঢাকা রহস্যময় সমুদ্র তার চিরচেনা চরিত্র বদলে ফেলছে। উপরিভাগের শীতল পানি চলে যাচ্ছে নিচে। গভীরে থাকা উষ্ণ পানি আচমকা উপরে উঠে আসছে। সমুদ্র স্রোতের এই আকস্মিক উল্টো রথ এবং পানির ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা দেখে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানীদের দাবি, দক্ষিণ গোলার্ধে সমুদ্রের গভীর স্তরের সঞ্চালন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উল্টে না গেলে এমনটা হওয়া অসম্ভব। এর ফলে সমুদ্রের গভীরে শত শত বছর ধরে জমা থাকা তাপ এবং কার্বন ডাই অক্সাইড এখন উপরে উঠে আসছে।
ব্রিটেনের ন্যাশনাল ওশানোগ্রাফিক সেন্টারের (এনওসি) সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এই পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। মহাকাশের কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে অ্যান্টার্কটিকা সংলগ্ন সমুদ্রে লবণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।
তাদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু মেরু অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমগ্র পৃথিবীর জলবায়ু ও বাস্তুতন্ত্রকে বড় ধরনের বিপদে ফেলতে পারে।
সাধারণত অ্যান্টার্কটিকায় বরফ গলে যে মিষ্টি পানি তৈরি হয়, তা সমুদ্রের উপরিভাগে থাকে। এই শীতল পানি নতুন করে বরফ জমার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। কিন্তু বর্তমানে নিচ থেকে উঠে আসা লবণাক্ত ও উষ্ণ পানি এই চক্রকে বাধা দিচ্ছে। উষ্ণ জল এখন নিচ থেকেই বরফকে গলিয়ে দিচ্ছে, ফলে নতুন করে বরফ জমার আর কোনো সুযোগ থাকছে না।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত অ্যান্টার্কটিকায় যে পরিমাণ বরফ গলেছে, তা আয়তনে আস্ত গ্রিনল্যান্ডের সমান।
বিজ্ঞানীরা এই পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন
» সমুদ্রের গভীর থেকে বেরিয়ে আসা তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব উষ্ণায়নকে আরও বাড়াবে। » এই পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অতিবৃষ্টি, শক্তিশালী ঝড় এবং চরম তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগ বেড়ে যাবে। » দ্রুত বরফ গলার ফলে সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে গিয়ে উপকূলীয় এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। » সমুদ্রের এই অস্বাভাবিক আচরণে পেঙ্গুইনসহ অ্যান্টার্কটিকার অনন্য জীববৈচিত্র্য ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের মুখে পড়বে।
বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের পানিতে কোনো কাঁটাতার নেই; তাই অ্যান্টার্কটিকার এই ক্ষত দ্রুতই সারা বিশ্বের সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়বে। এই ধারা বজায় থাকলে দক্ষিণ মহাসাগরে স্থায়ী পরিবর্তন চলে আসতে পারে, যা মানবসভ্যতার জন্য এক অশনি সংকেত।
মন্তব্য করুন

