

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আগামী তিন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বৃষ্টি কম হলেও বঙ্গোপসাগরে একাধিক লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে, এমনকি একটি ঘূর্ণিঝড়েও রূপ নিতে পারে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের মৌসুমি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে চার থেকে ছয়টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে দেশে তিন থেকে পাঁচ দফা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকলেও সামগ্রিকভাবে তা কম হতে পারে।
ঢাকায় সেপ্টেম্বরে ২৫০ থেকে ২৮০ মিলিমিটার, অক্টোবরে ১৪০ থেকে ১৮০ মিলিমিটার এবং নভেম্বরে ২০ থেকে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এ তিন মাসে যথাক্রমে ২৬৩, ১৬০ ও ২৬ মিলিমিটার।
ময়মনসিংহে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে যথাক্রমে ৩১০–৩৩০, ১৬০–২১০ ও ১০–২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রামে এ পরিমাণ হতে পারে ৩৩০–৩৬০, ২০০–২৪০ ও ৩০–৫০ মিলিমিটার।
সিলেটে সেপ্টেম্বর মাসে ৩৬০–৩৮০ মিলিমিটার, অক্টোবরে ১৬০–২২০ মিলিমিটার এবং নভেম্বরে ২০–৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
রাজশাহীতে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে যথাক্রমে ২৬০–২৮০, ১২০–১৪০ ও ১০–২০ মিলিমিটার। রংপুরে ৩৭০–৩৯০, ১৩০–১৮০ ও ৫–১৫ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
খুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে ২৭০–২৯০ মিলিমিটার, অক্টোবরে ১২০–১৭০ মিলিমিটার এবং নভেম্বরে ২৫–৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। বরিশালে এই তিন মাসে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত যথাক্রমে ৩২০–৩৪০, ২১০–২৪০ ও ৪০–৫০ মিলিমিটার।
শুধু বৃষ্টিই নয়, আগামী তিন মাসে তাপমাত্রা নিয়েও অস্বস্তি থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ সময়ে তিন থেকে পাঁচ দফা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
অধিদপ্তরের হিসাবে, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সেটিকে মৃদু এবং ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠলে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলা হয়।
এ ছাড়া ছয় থেকে ১০ দিন বজ্রঝড় হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। দেশের নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আগস্ট মাসের মতোই থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
গত আগস্টে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। তবে সব বিভাগে পরিস্থিতি এক ছিল না। চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হলেও সিলেট ও বরিশালে বৃষ্টিপাত ছিল স্বাভাবিক। অন্য বিভাগগুলোতে বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের তুলনায় কম।
আগস্টে বঙ্গোপসাগরে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল। মৌসুমি বায়ু, লঘুচাপ ও নিম্নচাপের প্রভাবে বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। এ মাসে এক দিনে সর্বোচ্চ ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় হাতিয়ায়।
অন্যদিকে আগস্টে দেশের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। মাসটির সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে ০ দশমিক ৮, ০ দশমিক ৫ ও ০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। ২৭ আগস্ট রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।


