

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০১০ সালের ফিফা বিশ্বকাপে 'পল দ্য অক্টোপাস' জার্মানির সব ম্যাচের সঠিক পূর্বাভাস দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তবে ২০১৪ সাল থেকে সেই পলের সাফল্যকেও ছাড়িয়ে গেছেন জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট
তিনি একটি জটিল গাণিতিক ও পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল ব্যবহার করে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপের বিজয়ী দলের (যথাক্রমে জার্মানি, ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা) শতভাগ সঠিক পূর্বাভাস দিয়েছেন।
তার এই ধারাবাহিক সফলতার পর, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য তার মডেল ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে, এবার জুলাইয়ে ট্রফি জিতবে নেদারল্যান্ডস। শুধু বিজয়ী নয়, ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপের পুরো গতিপথও তিনি বর্ণনা করেছেন।
তার মডেল অনুযায়ী, দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জাপান চমকপ্রদ জয় পাবে, স্কটল্যান্ড বিদায় নেবে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে এবং সেমিফাইনালে পর্তুগাল আবারও ইংল্যান্ডকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেবে।
পেশায় বিনিয়োগ ব্যাংক 'প্যানমিউর লিবারামে'র কৌশলবিদ ক্লেমেন্ট অবশ্য নিজেকে একজন 'নিরাশাবাদী' হিসেবে পরিচয় দেন। তার এই মডেল তৈরির মূল উদ্দেশ্য জুয়া খেলা বা অর্থ উপার্জন ছিল না।
বরং তিনি মজা করে দেখাতে চেয়েছিলেন যে, অর্থনীতিবিদরা কতটা অহংকার নিয়ে এমন সব বিষয়ে পূর্বাভাস দেন, যা সম্পর্কে তাদের আসলে কোনো ধারণাই নেই।
কিন্তু টানা তিনবার সঠিক হওয়ার পর মানুষ এখন তার এই মডেলকে 'অপরাজেয়' মনে করতে শুরু করেছে, যা তার ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে। এমনকি তার অফিসের সহকর্মীরাও নেদারল্যান্ডসের পক্ষে বাজি ধরেছেন।
ক্লেমেন্ট পাঠকদের সতর্ক করে বলেছেন যে, কোনো দেশের জনসংখ্যা, সম্পদ, জলবায়ু বা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের মতো কিছু দৃশ্যমান উপাদানের ওপর ভিত্তি করে এই মডেল তৈরি হলেও, ফুটবলের ৫০ শতাংশই নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর।
ম্যাচের দিনের ফর্ম, রেফারির সিদ্ধান্ত বা বল পোস্টে লাগার মতো অনিশ্চিত বিষয়গুলো কখনোই আগে থেকে গণনা করা সম্ভব নয়।
বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ, সংকট ও নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে মানুষের মনকে কিছুটা আনন্দ দিতেই ক্লেমেন্ট এই কাজটিকে বেছে নিয়েছেন। তবে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, এটি মূলত একটি কাকতালীয় অনুশীলন মাত্র এবং একে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা উচিৎ নয় ।
