শুক্রবার
১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রহস্যে মোড়া এক বিশ্বকাপের গল্প

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ১২:০৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে এক বিশেষ মাইলফলক হয়ে আছে। প্রথমবারের মতো আফ্রিকা মহাদেশে আয়োজিত এই বিশ্বকাপ বিশ্ববাসীকে উপহার দিয়েছিল ভুভুজেলার অবিরাম গর্জন, জাবুলানি বলকে ঘিরে বিতর্ক এবং স্পেনের মনোমুগ্ধকর টিকিটাকা ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব।

১১ জুলাই জোহানেসবার্গের সকার সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। ম্যাচজুড়ে স্পেনের বল দখলভিত্তিক টিকিটাকা কৌশলের বিপরীতে ডাচদের শারীরিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দল গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের ১১৬তম মিনিটে সেস ফ্যাব্রিগাসের বাড়ানো বল থেকে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা দুর্দান্ত এক গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন। সেই গোলই নিশ্চিত করে স্পেনের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ জেতা অষ্টম দেশ হিসেবে নিজেদের নাম লেখায় স্প্যানিশরা।

অন্যদিকে, ২০০৬ বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট ইতালি ও ফ্রান্সের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার আসর ছিল হতাশার। দুই দলই গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে ব্যর্থ হয়ে বিদায় নেয়। আর দিয়েগো ম্যারাডোনার অধীনে খেলতে নামা আর্জেন্টিনাও কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে স্বপ্নভঙ্গের শিকার হয়।

এই বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত চরিত্র ছিল জার্মানির একটি অ্যাকুরিয়ামে থাকা ‘পল দ্য অক্টোপাস’। বিভিন্ন ম্যাচের ফলাফল নিয়ে তার ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে ফাইনালে স্পেনের জয় সঠিকভাবে অনুমান করে পল বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করে।

টুর্নামেন্টজুড়ে আলোচনায় ছিল অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘জাবুলানি’। বলটির অস্বাভাবিক গতিপথ ও আচরণ নিয়ে গোলরক্ষকসহ অনেক ফুটবলার অভিযোগ করেছিলেন। অনেকের মতে, এটি গোলরক্ষকদের জন্য বিশ্বকাপটিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্তগুলোর একটি আসে কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ে ও ঘানার ম্যাচে। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে ঘানার নিশ্চিত গোল হাত দিয়ে প্রতিহত করেন উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। এজন্য লাল কার্ড দেখলেও তার সেই সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ঘানা পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় পেয়ে সেমিফাইনালে ওঠে উরুগুয়ে। আফ্রিকার কোনো দেশের প্রথমবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন সেখানেই ভেঙে যায়।

ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও ২০১০ বিশ্বকাপ ছিল স্মরণীয়। জার্মানির থমাস মুলার পাঁচ গোল ও একাধিক অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুট জেতার পাশাপাশি সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কারও নিজের করে নেন। অন্যদিকে, উরুগুয়েকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পথে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি হিসেবে গোল্ডেন বল জেতেন দিয়েগো ফোরলান।

সব মিলিয়ে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ ছিল ইতিহাস, আবেগ, বিতর্ক এবং নতুন অধ্যায়ের এক অনন্য সংমিশ্রণ, যা আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন