

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচই হওয়ার কথা ছিল ভারতের মাটিতে।
তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষাপটে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে- বাংলাদেশের সব ম্যাচ যেন ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়।
এই আবেদনের ফলে যদি সত্যিই ভারতের ভেন্যু থেকে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
এরই মধ্যে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় দেশে আইপিএলের সম্প্রচার ও প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় গত ৫ ডিসেম্বর এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
এদিকে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ জানিয়েছে, বাংলাদেশের আবেদনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে আইসিসি। প্রয়োজনে আসরের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে সূচি বদলাতে হলে আর্থিক চাপ সামলাতে হবে ভারতকে।
আগের সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতা ও মুম্বাইয়ের দুই বড় স্টেডিয়ামে। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৩ হাজার এবং মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রায় ৩৩ হাজার। সব মিলিয়ে চার ম্যাচে আনুমানিক ২ লাখ ২২ হাজার দর্শক মাঠে আসার সম্ভাবনা ছিল।
এই ম্যাচগুলোর টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল সর্বনিম্ন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ রুপি। যদিও আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী টিকিট বিক্রির মালিকানা থাকে আইসিসি বিজনেস কর্পোরেশনের হাতে। ফলে আয়োজক দেশ হিসেবে বিসিসিআই সরাসরি টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ পায় না।
তবে ম্যাচ ডে সারপ্লাস, স্থানীয় স্পনসরশিপ এবং ভিআইপি হসপিটালিটি (করপোরেট বক্স) থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করার সুযোগ ছিল ভারতের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর সেই ভেন্যুগুলোতে নতুন কোনো ম্যাচ না দেওয়া হয়, তাহলে বিসিসিআইয়ের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৭ থেকে ৩০ কোটি রুপি। এই হিসাব করা হয়েছে ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ দর্শক উপস্থিতি এবং গড় টিকিটমূল্য ৫০০ থেকে ১৫০০ রুপি ধরে।
তবে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর পরিবর্তে যদি একই মাঠে অন্য কোনো ম্যাচ আয়োজন করা হয়, তাহলে ক্ষতির অঙ্ক অনেকটাই কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন
