

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব এবং বর্তমান গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন আবারও সেই সময়কার ভয়াবহ রিমান্ড নির্যাতনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
তার দাবি, সেদিন সিটিটিসির তৎকালীন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ইশতিয়াক আহমদই নির্যাতনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দুটি পোস্টে তিনি নির্যাতনের মুহূর্তগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করার কথাও জানান।
রাশেদ লিখেছেন, এডিসি ইশতিয়াক ঘর থেকে উঠে এসে প্রথমেই তাকে শরীরের একটি স্পর্শকাতর স্থানে (গোপানঙ্গে বুট দিয়ে সজোরে) লাথি মারেন।
ব্যথায় তিনি চিৎকার করে উঠলেও থেমে থাকেনি মারধর। রাশেদের ভাষ্য, গালিগালাজের সঙ্গে তাকে প্রশ্ন করা হয়, কেন তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছিলেন।
তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তার হাত-মুখ বেঁধে ফেলে। গামছা দিয়ে মুখ চেপে রাখায় তিনি গোঙানো ছাড়া কিছুই করতে পারেননি।
তিনি বাঁচার আকুতিতে ইশতিয়াকের পা ধরতে গেলেও কোনো দয়া দেখানো হয়নি। প্রচণ্ড পেটানোয় শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত হয়, আঙুল ফেটে রক্ত পড়ে মেঝেতে।
তার ভাষায়, বারবার দাঁড় করানো হচ্ছিল, কিন্তু শারীরিক অবস্থার কারণে ঠিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না।
দাঁড়াতে না পারলেই আবার প্রহার। দীর্ঘ নির্যাতনে শরীর অসাড় হয়ে গেলে তিনি সারারাত ব্যথায় ঘুমাতেও পারেননি।
রাশেদ লিখেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণে যে নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে, সেই আন্দোলনের পরিণতি হিসেবে শেখ হাসিনার পতন ও সাম্প্রতিক রায় তার কাছে এক ধরনের ‘বড় অর্জন’।
আরেক স্ট্যাটাসে রাশেদ বলেন, ইশতিয়াক আহমদ বর্তমানে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসংক্রান্ত মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধেও তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছেন।
তার দাবি, পুলিশের ভেতরে এরকম আরও অনেক নির্যাতনকারী কর্মকর্তা সক্রিয় আছে। তিনি ভুক্তভোগীদের এগিয়ে এসে আইনের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের ওপর জোর দেন।
মন্তব্য করুন

