

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামি শরিয়তে মানুষের সম্মান ও মর্যাদা কেবল জীবিতাবস্থায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং মৃত্যুর পরও তা সমানভাবে বহাল থাকে। পবিত্র কুরআনের সুরা ইসরা-এর ৭০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বনি আদমকে সম্মানিত করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং ফিকহের কিতাব 'আল মাবসুত'-এ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
তাই মৃত্যুর পর মৃতদেহের যথাযথ সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা জীবিত মুসলিম সমাজের একটি অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই দায়িত্বের অংশ হিসেবেই মৃত ব্যক্তিকে সযত্নে কাফন পরানো, জানাজার নামাজ আদায় করা এবং সুন্দরভাবে দাফনের ব্যবস্থা করা অত্যাবশ্যকীয় বিধান।
একই সাথে মৃতদের কবর দেওয়ার স্থান বা কবরস্থান সংরক্ষণ করা এবং এর অসম্মান হয় এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকা সবার কর্তব্য।
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এক কবরের ওপর আরেকজনকে কবর দেওয়া, কবরের ওপর ঘর-বাড়ি নির্মাণ করা কিংবা তার ওপর বসা সম্পূর্ণ নাজায়েজ।
তবে কোনো কবরস্থান যদি সম্পূর্ণ পূর্ণ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে পুরোনো যেসব কবরের লাশ একদম মাটি হয়ে গেছে, সেখানে নতুন করে কবর দেওয়া যাবে। আবার কবরস্থান যদি নতুন মাটি দিয়ে সংস্কার করা হয় এবং নতুন ও পুরোনো কবর আলাদাভাবে চেনা না যায়, তবে যেখানে নতুন কবর থাকার সম্ভাবনা কম, এমন স্থান দেখে কবর খোঁড়া উচিত।
কবর খননের সময় যদি পুরোনো কোনো হাড্ডি বা অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়, তবে তা অপসরণ না করে সসম্মানে ওই কবরের এক পাশে বা অন্য কোনো পবিত্র স্থানে দাফন করে দিতে হবে। কিন্তু যেখানে স্পষ্ট নতুন কবরের চিহ্ন রয়েছে এবং লাশ এখনো মাটি হয়ে যায়নি বলে প্রবল ধারণা হয়, সেখানে বিশেষ কোনো ওজর বা জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া নতুন করে কবর খোঁড়া বা দাফন করা যাবে না। (তথ্যসূত্র: তাবয়িনুল হাকায়েক: ১/৫৯৯; আলবাহরুর রায়েক: ২/১৯৫; রদ্দুল মুহতার: ২/২৩৩; ফাতহুল কাদির: ২/১০২)
