

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, কোনো বাড়িতে মানুষ মারা গেলে সেখানে তিন দিন পর্যন্ত চুলায় আগুন জ্বালানো নিষেধ। অনেকে মনে করেন, এতে অমঙ্গল বা অশুভ কিছু হতে পারে। তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই; এটি সম্পূর্ণ একটি কুসংস্কার।
ইসলামে কুলক্ষণ বা অপয়া বলতে কিছু নেই। স্বাভাবিক গৃহস্থালি কাজে বা প্রয়োজনে যেকোনো সময় আগুন জ্বালানো সম্পূর্ণ বৈধ। এমনকি মৃত ব্যক্তিকে শেষ গোসল দেওয়ার জন্য পানির প্রয়োজন হয়, যা গরম করতে আগুনেরই দরকার পড়ে। যদি আগুন জ্বালানো সত্যিই নিষিদ্ধ হতো, তবে এই ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়ত।
তাহলে এই ভুল ধারণার উৎপত্তি কোথায়? মূলত, প্রিয়জন হারানোর বেদনায় মৃতের পরিবার স্বাভাবিকভাবেই চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যায়। এ সময় তাদের পক্ষে রান্নাবান্নার মতো কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন। এই মানবিক দিকটি বিবেচনা করে ইসলাম প্রতিবেশীদের একটি সুন্দর দায়িত্ব দিয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, মৃতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য যেন প্রতিবেশীরা বা নিকটাত্মীয়রা খাবারের ব্যবস্থা করেন। যেমন- জাফর ইবনে আবু তালিব (রা.) যখন শহীদ হন, তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) সাহাবিদের বলেছিলেন: "তোমরা জাফরের পরিবারের জন্য খাবার তৈরি করো। কারণ, এখন তারা এমন এক পরিস্থিতিতে আছে যা তাদের অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দিতে দিচ্ছে না।" (মুসনাদে আহমাদ)
ইসলামের এই সুন্দর ও সহানুভূতিশীল শিক্ষাকে ভুলভাবে গ্রহণ করে অনেকে মনে করেছেন যে, মৃতের বাড়িতে আগুন জ্বালানোই বুঝি নিষেধ। তাই শায়খ আহমাদুল্লাহসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের মতে- প্রয়োজনে মৃতের বাড়িতে যেকোনো সময় চুলা জ্বালানো যাবে, এতে কোনো পাপ বা অমঙ্গল হবে না। তবে এ সময়ে প্রতিবেশীদের উচিত শোকগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের খাবারের দায়িত্ব নেওয়া।
