

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের মক্কায় জড়ো হচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পুরো অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতার মধ্যেই মানুষ সেখানে যাচ্ছেন।
তবে এবার হজযাত্রীদের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র গরম। এ অবস্থায় হজ ঘিরে বেশ কিছু নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা এএফপি সৌদি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আগামী ২৫ মে থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। শেষ হবে ৩০ মে। ইতোমধ্যে হজ পালনের জন্য ১২ লাখের বেশি মুসল্লি সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।
জার্মানি থেকে হজ করতে পরিবারসহ মক্কায় আসা গৃহিণী ফাতিমা (৩৬) এএফপিকে বলেন, ‘এখানে আসা নিয়ে আমাদের মনে এক মুহূর্তের জন্যও দ্বিধা ছিল না। আমরা জানি, পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গাতেই আছি।’
কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে যা
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব হজের আনুষ্ঠানিকতায় যেন কোনো বাধা সৃষ্টি না করে, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে হজযাত্রীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা প্রচার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সৌদির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় বলা হয়েছে, হজ চলাকালে কোনো রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক পতাকা বহন কিংবা স্লোগান দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
এবার হজে কোনো ধরনের অস্থিরতা এড়াতে সৌদি ও ইরান উভয় পক্ষই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সৌদি পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ উমর করিম এএফপিকে বলেন, ‘যুদ্ধ সত্ত্বেও সৌদি আরব ও ইরান নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা উন্মুক্ত রেখেছে।’
এ বছর এপ্রিলের শেষ দিকে ইরানি হজযাত্রীরাও সৌদি আরবে আসতে শুরু করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক হাজার ইরানি এবারের হজে অংশ নেবেন।
এবার হজযাত্রীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র গরম। সপ্তাহজুড়ে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ইতোমধ্যে পূর্বাভাস দিয়েছে সৌদি আবহাওয়া দপ্তর।
২০২৪ সালে হজ চলাকালীন তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। সে বছর গরমে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ এবার ছায়াযুক্ত স্থান বাড়ানো এবং অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ নানা ব্যবস্থা নিয়েছে।
সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজযাত্রীদের সহায়তার জন্য ৫০ হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী ও ৩ হাজার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
হজযাত্রীদের জন্য আরও যত উদ্যোগ
মক্কার তিনটি মেট্রো স্টেশন এলাকার তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমাতে ইতোমধ্যে সড়ক শীতলীকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সৌদি সড়ক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
মক্কা ও মদিনার সংযোগকারী হিজরত সড়কে ‘বিশেষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবু’ চালু করা হয়েছে। বিশ্রামাগারে হজযাত্রীদের জন্য হালকা খাবার ও ঠান্ডা পানীয়র ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
হজযাত্রীদের হাঁটার পথে ২ হাজার ৪০০টিরও বেশি আধুনিক ওয়াটার পয়েন্ট বা পানি সরবরাহ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সার্বক্ষণিকভাবে ঠান্ডা ও শতভাগ বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি পাবেন হজযাত্রীরা।
এ ছাড়া সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য ড্রোন ও এআই (কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
