

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাকাত কাকে বলে?
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি হচ্ছে জাকাত, যা ইসলামের ফরজ বিধান। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক ও সম্পদশালী মুসলমান পুরুষ ও নারীর প্রতি বছর নিজের সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ দরিদ্র-দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের নিয়মকে জাকাত বলা হয়। শরিয়ত নির্ধারিত সীমার (৭ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা বা ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্য অথবা সমপরিমাণ নগদ অর্থ) বেশি সম্পদ হিজরি ১ বছর ধরে কারো কাছে থাকলে তাকে সম্পদশালী গণ্য করা হয় এবং তার বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫ শতাংশ বা ১/৪০ অংশ দান করতে হয়।
৪ ধরনের সম্পদের জাকাত দিতে হয়
জাকাত ওয়াজিব হয় বর্ধনশীল সম্পদের ওপর যা ৪ ধরনের হয়ে থাকে:
১. স্বর্ণ
২ রৌপ্য
৩. ব্যবসার পণ্য
৪. নগদ অর্থ
যেভাবে জাকাতের হিসাব করবেন
আপনার কাছে যদি এক বছর ধরে নেসাব পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পত্তি অর্থাৎ ৭ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম বা এর বেশি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা বা ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্য থাকে অথবা এই পরিমাণ স্বর্ণ বা রৌপ্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ থাকে, তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে আপনি সম্পদশালী ব্যক্তি গণ্য হবেন এবং আপনার ওপর জাকাত আদায় করা ফরজ।
নগদ অর্থ, স্বর্ণ/ রৌপ্য বা ব্যবসায়ের সম্পদ যেদিন নেসাব পর্যায়ে পৌঁছাবে, সেদিন থেকেই জাকাতের বর্ষগণনা শুরু করবেন। জাকাতের বর্ষ পূর্ণ হওয়ার দিনে অর্থাৎ ওই পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার ঠিক এক বছর পর আপনার মালিকানায় যে পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পদ অর্থাৎ নগদ অর্থ, ব্যবসায়ের সম্পদ, স্বর্ণ বা রৌপ্য থাকবে, তার ৪০ ভাগের ১ ভাগ বা ২.৫ শতাংশ জাকাত হিসেবে দান করে দিতে হবে।
এক বছর ধরে নেসাব পরিমাণ সম্পত্তির মালিক থাকলে জাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার পর আপনার মালিকানাধীন সমুদয় বর্ধনশীল সম্পদের জাকাত দিতে হবে; শুধু যে সম্পদ এক বছর ধরে আপনার কাছে রয়েছে ওই সম্পদের নয়। বছরের শেষে বা মাঝামাঝি সময়ে কিছু অর্থ বা স্বর্ণ লাভ করে থাকলে তাও জাকাতের হিসেবে যুক্ত হবে।
আপনার স্থাবর সম্পত্তি যেমন জমি, বাড়ি ইত্যাদির ওপর জাকাত ওয়াজিব হয় না যদি সেগুলো ব্যবসার পণ্য না হয়। একইভাবে যে গাড়ি বা বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়, ওই গাড়ি বা বাড়িরও জাকাত দিতে হয় না যেহেতু সেগুলো অর্থ আয়ের মাধ্যম হলেও ব্যবসার পণ্য নয়।
মন্তব্য করুন

