

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাহরিতে ভাত নাকি রুটি—কোনটি খেলে ক্ষুধা কম লাগবে, তা মূলত নির্ভর করে খাবারের ধরন, পরিমাণ এবং সাথে কী খাওয়া হচ্ছে তার ওপর।
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও হাদিসের আলোকে বলা যায়, রুটি (বিশেষ করে আটা বা হোল গ্রেইন রুটি) ভাতের তুলনায় বেশি সময় পেট ভরা রাখে এবং ক্ষুধা দেরিতে লাগে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“তোমরা সাহরি খাও, কেননা সাহরিতে বরকত আছে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
আরও পড়ুনঃ মুখের ঘা বা আলসার হলে রোজা রাখার উপায়।
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, সাহরি এমন হওয়া উচিত যা শরীরকে শক্তি দেয় এবং দীর্ঘ সময় সহ্যক্ষমতা তৈরি করে।
ভাত মূলত দ্রুত হজম হয় এবং শরীরে দ্রুত শক্তি দেয়। কিন্তু ভাতের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি হওয়ায় এটি রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায় এবং আবার দ্রুত কমে যায়।
ফলে কিছুক্ষণ পর আবার ক্ষুধা অনুভূত হয়।
যারা সাহরিতে শুধু ভাত ও আলু-ভর্তা বা হালকা তরকারি খান, তাদের অনেক সময় দুপুরের আগেই ক্ষুধা ও দুর্বলতা লাগে।
আরও পড়ুনঃ ইফতারে চিয়া সিড খাওয়ার ৫টি জাদুকরী উপকারিতা।
রুটি, বিশেষ করে আটা বা লাল আটা দিয়ে তৈরি রুটি, ফাইবারসমৃদ্ধ। ফাইবার হজমে সময় নেয় এবং পাকস্থলীতে বেশি সময় থাকে।
এতে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ হয় এবং দীর্ঘ সময় ক্ষুধা কম লাগে। তাই সাহরিতে রুটি খেলে তৃষ্ণা ও ক্ষুধা তুলনামূলক কম অনুভূত হয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো সাথে কী খাচ্ছেন
শুধু ভাত বা শুধু রুটি নয়, সাহরিতে প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার যোগ করলে ক্ষুধা অনেক কম লাগে। যেমন
ডিম ডাল দই সবজি অল্প তেলযুক্ত তরকারি
আরও পড়ুনঃ রমজানে চা-কফি পানের সঠিক সময় ও পরিমাণ।
রাসূলুল্লাহ (সা.) সহজপাচ্য ও পরিমিত খাবার পছন্দ করতেন এবং অতিরিক্ত খাওয়া নিষেধ করেছেন।
তিনি বলেছেন,
“মানুষের জন্য সবচেয়ে খারাপ পাত্র হলো পেট। কয়েক লোকমাই যথেষ্ট, যাতে সে মেরুদণ্ড সোজা রাখতে পারে।” (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)
এই হাদিস আমাদের শেখায়, সাহরিতে পরিমিত ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবারই উত্তম।
ক্ষুধা কম লাগার জন্য রুটি ভাতের চেয়ে বেশি কার্যকর। ভাত খেলে দ্রুত ক্ষুধা ফিরে আসতে পারে। রুটি + ডিম বা ডাল + সবজি সবচেয়ে ভালো সাহরি। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।
মন্তব্য করুন

