শনিবার
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখবেন কীভাবে? ডাক্তারি পরামর্শ।

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
expand
ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখবেন কীভাবে? ডাক্তারি পরামর্শ।

রমজান মাসে রোজা রাখা প্রতিটি মুসলমানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। কারণ রোজার সময় দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্য এবং পানীয় গ্রহণ না করার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠা-নামা করতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রোজা রাখা আগে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

ইসলামে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজা থেকে ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “যারা অসুস্থ বা সফরে থাকে, তারা পরে সেই সংখ্যক রোজা পূর্ণ করবে।” (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫)। অর্থাৎ, শরীরের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। তবে অনেক রোগী স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রোজা রাখতে সক্ষম হন। এজন্য ডাক্তারি পরামর্শ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন ঃ ইনহেলার ব্যবহার করলে কি রোজা ভেঙে যায়?

ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখার আগে প্রথমে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে টাইপ-১ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি জরুরি। ডাক্তাররা সাধারণত পরামর্শ দেন, রোজার সময় ইনসুলিন বা ওষুধের ডোজ পরিবর্তন করতে হতে পারে। সকালে সেহরির সময় এবং রাতে ইফতারের সময় ওষুধ গ্রহণের সময়সূচি ঠিক রাখা স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রয়োজন। কখনও কখনও ডাক্তাররা ইনসুলিনের ডোজ কমিয়ে বা আলাদা টাইমিংয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

রোজার সময় খাদ্য এবং পানীয়ের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস রোগীদের উচিত জটিল কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা, যা রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরগতিতে বৃদ্ধি করে। সেহরিতে বেশি চিনি বা সাদা আটা ব্যবহার এড়িয়ে চলা উত্তম। এছাড়া ইফতারের সময়ও হঠাৎ করে প্রচুর মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ না করা উচিত। পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ডিহাইড্রেশন এড়ানো যায়।

আরও পড়ুন ঃ রোজা অবস্থায় ইনসুলিন বা ইনজেকশন নেওয়া যাবে কি?

ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা চলাকালীন শরীরের লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। যদি মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, চোখে অন্ধকার দেখা, বা রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি বা কমে যাওয়ার অনুভূতি হয়, তবে অবিলম্বে রোজা ভাঙা উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। শরিয়তও নির্দেশ দিয়েছে, যে ব্যক্তি নিজের জীবন বা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলবে, তার জন্য রোজা থেকে বিরত থাকা জায়েজ।

শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। রোজার সময় অতিরিক্ত পরিশ্রম, ভারী ব্যায়াম বা দীর্ঘ হাঁটা রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। ডাক্তাররা সাধারণত পরামর্শ দেন, রোজা চলাকালীন সময় হালকা শারীরিক কার্যক্রম করা এবং যথাসম্ভব বিশ্রাম নেওয়া।

ফিকহ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত আলেমরা জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস রোগীরা যদি তাদের ডাক্তার ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য, পানি, ওষুধ এবং ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ করে, তবে রোজা রাখা সম্ভব। এটি শরীরের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয় এবং ইবাদতের উদ্দেশ্যও পূর্ণ হয়। তবে রোগীদের উচিত নিজেদের শরীরের সিগন্যাল খেয়াল রাখা এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে রোজা ভাঙা।

আরও পড়ুন ঃ কানে বা নাকে ড্রপ দিলে কি রোজা ভেঙে যায়?

এছাড়া, রমজান মাসে স্বাস্থ্য ও ইবাদতের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে যারা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তাররা রোজার আগে রোগীর পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ডোজ, সময় এবং খাবারের পরিমাণ সমন্বয় করেন। এটি রোজা চলাকালীন রক্তে শর্করার মাত্রা নিরাপদ রাখে।

সবশেষে বলা যায়, ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন যদি তারা ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য, ওষুধ এবং শরীরের পর্যবেক্ষণ ঠিক রাখেন। রোজা চলাকালীন শারীরিক লক্ষণ খেয়াল রাখা, যথাযথ ডোজ ও খাবারের সময়সূচি মেনে চলা, পানি যথেষ্ট পরিমাণে পান করা এবং প্রয়োজন হলে সেহরি বা ইফতারের সময়ে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ছাড় থাকা সত্ত্বেও, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার সংযমের মাধ্যমে অনেক রোগী নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন।

সুতরাং কুরআন, সহিহ হাদিস এবং চিকিৎসাজনিত পরামর্শের আলোকে বলা যায়—ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন যদি তারা সতর্কভাবে পরিকল্পনা ও চিকিৎসক পরামর্শ অনুসরণ করেন। এতে রোজা সহিহ থাকবে, স্বাস্থ্য রক্ষা হবে এবং রমজানের মূল উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X