

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রমজানের শেষ দশক মানেই লাইলাতুল কদরের অপেক্ষা। কোরআনের ভাষায় এই রাতকে বলা হয়েছে বরকতময় এবং হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। কদর শব্দের অর্থ সম্মান বা নিয়তি। ফারসিতে একে শবে কদর বলা হলেও আরবিতে পরিচিত লাইলাতুল কদর নামে।
কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, এ রাতেই লাওহে মাহফুজ থেকে পূর্ণ কোরআন অবতীর্ণ হয়, পরে তা ধাপে ধাপে ২৩ বছরে দুনিয়ায় নাজিল হয়েছে। আল্লাহ বলেন, এ রাতে ফেরেশতারা এবং জিবরাইল (আ.) অবতীর্ণ হন এবং ভোর পর্যন্ত শান্তি নেমে আসে। (সূরা কদর, আয়াত: ১–৫)
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস
হাদিসে এসেছে, রমজানের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক ক্ষমার, আর শেষ দশক মুক্তির। তাই শেষ দশ দিনে বিশেষভাবে কদরের রাত খুঁজতে বলা হয়েছে। বুখারি ও মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, নবী করিম (সা.) বলেছেন—রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর অনুসন্ধান করো।
কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর রহমত থেকে কেউ নিরাশ হয় না, শুধু পথভ্রষ্টরা ছাড়া। (সূরা হিজর, আয়াত: ৫৬) আবার তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, যারা গুনাহে নিমজ্জিত তারাও তাঁর অশেষ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত নয়। (সূরা জুমার, আয়াত: ৫৩)
ধর্মতাত্ত্বিকদের মতে, যারা আল্লাহর করুণা থেকে নিরাশ হয় না, তাঁদের জন্য তিনটি নেয়ামত থাকে—বিপদ থেকে রক্ষা, পাপ মোচন এবং কঠিন কাজ সহজ হয়ে যাওয়া।
দোয়ার বিশেষ গুরুত্ব: হজরত আয়িশা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) তাঁকে লাইলাতুল কদরের রাতে পড়ার জন্য বিশেষ দোয়া শিখিয়েছিলেন— আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফা ফু আন্নি। অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাকারী, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, আমাকে ক্ষমা করে দিন।
মন্তব্য করুন
