

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার জন্য দক্ষ বিদেশি কর্মীদের যে ৬০ দিনের সুযোগ রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এইচ-১বি ভিসাসহ কয়েক ধরনের অস্থায়ী কর্মী ভিসাধারীদের চাকরি শেষ হওয়ার পর দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করেছে।
২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড চালু রয়েছে। কোনো বিদেশি কর্মীর চাকরি চলে গেলে এই সময়ের মধ্যে তিনি নতুন চাকরি বা নতুন স্পনসর খুঁজে নেওয়ার সুযোগ পান।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে বাড়ি বিক্রি, সন্তানদের স্কুল থেকে সরিয়ে নেওয়া কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার জন্যও এই সময় ব্যবহার করতে পারেন কর্মীরা। প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে এই ৬০ দিনের সময়সীমা আর থাকবে না। চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে কর্মী যুক্তরাষ্ট্র থেকে চলে যাওয়ার পর নতুন নিয়োগকর্তা তার পক্ষে আবেদন করলে তিনি আবার ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে এইচ-১বি ভিসার গুরুত্ব অনেক। ১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস এই ভিসা চালু করে। বিশেষ দক্ষতার কর্মীদের নিয়োগ দিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই ভিসা ব্যবহার করে। বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
ডেলয়েট, পিডব্লিউসি ও আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বড় এইচ-১বি স্পনসর। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক ও এলটিআইমাইন্ডট্রির মতো আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানও উল্লেখযোগ্য স্পনসর।
ডিএইচএস বলেছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মী ব্যবস্থাপনায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে তাদের যুক্তি, এর ফলে এসব পদে সমান যোগ্যতার মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
ব্যবসায়িক অভিবাসন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান বেরার্ডি ইমিগ্রেশন ল-এর আইনজীবীরা বলেছেন, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বিদেশি কর্মীদের ছাঁটাই বা চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য মানবসম্পদ বিভাগগুলোর হাতে সময় অনেক কমে যাবে।
বিশেষ করে বড় প্রযুক্তি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এর প্রভাব অনুভব করতে পারে। কারণ চাকরি হারানোর পর নতুন স্পনসর খোঁজার জন্য বিদেশি কর্মীদের হাতে থাকা সময় দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।



