

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসে সাফল্যের তুলনায় ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী বলে মন্তব্য করেছে খেলাফত মজলিস। দলটির নেতারা বলেছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকার ব্যর্থ হচ্ছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে এসব কথা বলেন দলটির নেতারা।
বৈঠকে নেতারা বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের সহায়তা অব্যাহত রাখা, প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচনের নীতি অনুসরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর বিশেষ উদ্যোগ এবং কৃষিঋণ মওকুফের কিছু কর্মসূচি সরকারের সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের তুলনায় সরকারের ব্যর্থতার দিকই বেশি।
খেলাফত মজলিসের নেতারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দলীয় ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
বৈঠকে সংবিধান সংস্কার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা। তারা বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের গণরায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি নিজস্ব প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিতে চাইছে। অথচ জনগণ এমন সংবিধান সংস্কার চায়, যাতে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।
এ জন্য জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে খেলাফত মজলিসের নেতারা বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমেই তা সম্ভব। তাদের ভাষ্য, সংবিধানের মৌলিক শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের কাঠামোগত ক্ষমতা সংস্কার পরিষদের থাকা প্রয়োজন এবং গণভোটে ‘হ্যা’ ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ সেই ক্ষমতা ইতোমধ্যে দিয়ে দিয়েছে।
সরকারের প্রতি জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়ে দলটির নেতারা সংসদে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে জুলাই ও শাপলা গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে বৈঠকটি পরিচালনা করেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, প্রচার ও তথ্য সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফেজ মাওলানা শায়খুল ইসলাম, যুব বিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, ডা. আবদুর রাজ্জাক আসাদ, খন্দকার শাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হক, মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার, মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া ও আবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


