

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার সীমান্তবর্তী ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চারদিন ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত শুক্রবার থেকে সোমবার (৩১ আগস্ট) পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা, সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
এর মধ্যে রোববার বিকেলে ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় শুরু হওয়া সাড়ে ৭ ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৩০ জন।
তাদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছর ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের বরখাস্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং সালথার খাড়দিয়া গ্রামের
বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের অনুসারীদের মধ্যে ময়েনদিয়া বাজারের আধিপত্য নিয়ে বিরোধ তীব্র হয়।
তৎকালীন সময়ে মান্নান মাতুব্বরের লোকজন এলাকা ছাড়লে বাজারের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় জিহাদপন্থিদের হাতে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মান্নান মাতুব্বরের সমর্থকরা এলাকায় ফিরতে শুরু করলে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে নতুন করে আগুন জ্বলে ওঠে। সংঘাতের ধারাবাহিকতায় গত শনিবার ময়েনদিয়া বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাতাহাতিতে আহত হন সোলায়মান মাতুব্বর। খবর পেয়ে সেখানে গেলে দেশীয় অস্ত্রের হামলায় গুরুতর আহত হন বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার জেরে রোববার বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
সর্বশেষ সোমবার সকালে ধুলজোড়া ও উজিরপুর এলাকায় মান্নান মাতুব্বরের সমর্থকদের অন্তত ৮-১০টি বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে খবর পেয়ে বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দুই থানার ওসিসহ অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বর্তমানে ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় ফের সংঘাতের আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জিহাদের ওপর হামলার ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।


