মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩১ দফা ভুলে গেছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
মো. নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
expand
মো. নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

সোমবার (২৪ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি এ অভিযোগ করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার কথা বলে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের জন্য যুগপৎ আন্দোলন করেছিল বিএনপি। নির্বাচনের সময়ও ৩১ দফাকে সামনে রেখে ভোট চেয়েছিল দলটি। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই ৩১ দফার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তিনি বলেন, ৩১ দফার প্রথম দফায় একটি সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করে সব অগণতান্ত্রিক সংশোধনী বাতিল এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় বসার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপি সংবিধান সংস্কারের কথা ভুলে গেছে।

নাহিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘গণভোটে জনগণের দেওয়া সুস্পষ্ট রায়কেও বিএনপি সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। একত্রিশ দফার কথা বলে নির্বাচনী বৈতরণী পার করেছে বিএনপি। ক্ষমতায় বসার সঙ্গে সঙ্গে সংবিধান সংস্কার ভুলে গেল বিএনপি।’

বিএনপির ৩১ দফার বিচার বিভাগসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৩১ দফায় অধস্তন আদালতগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত করার কথা বলা হয়েছিল। বিচার বিভাগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথাও ছিল। অথচ ক্ষমতায় এসে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ’ বাতিল করেছে বিএনপি সরকার। এর ফলে বিএনপির ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরকারের বর্তমান অবস্থানের অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে।’

তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তার পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বিলুপ্ত করার সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সময় আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, বিএনপি আরও ভালো আইন করবে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভা গুম ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে আগের ব্যবস্থার তুলনায় মানবাধিকার সুরক্ষার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে।’

নাহিদ ইসলামের দাবি, গুমের অভিযোগ নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে করা হলে সেই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতেই থাকবে। পরে অভিযোগটি আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যদের পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আরও ভালো আইনের পরিবর্তে মন্ত্রী মহোদয় ফ্যাসিবাদী আমলের চেয়েও ভয়াবহ জায়গায় ফিরে গেছেন।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন