

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ আর পুরনো শাসনব্যবস্থায় ফিরতে চায় না। তারা পরিবর্তন চায় এবং তার প্রমাণ মিলেছে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে।
তিনি বলেন, অতীতে ছাত্র সংগঠনগুলো আবাসিক হলগুলোতে গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতির নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে। মারামারি, অস্ত্রের ঝনঝনানি থেকে শুরু করে খুনোখুনির ঘটনাও ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী হত্যার শিকার হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মানুষ আজ অনেক বেশি সচেতন। তারা বুঝতে পারছে কোনটা তাদের জন্য ভালো আর কোনটা মন্দ। তাই জনগণ চায় একটি নতুন জনমুখী ও কল্যাণকেন্দ্রিক বাংলাদেশ। জনগণ আর কর্তৃত্ববাদী বা ফ্যাসিবাদী শাসন সহ্য করতে রাজি নয়।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে হত্যা, গুম, সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে একক দলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। মানুষ ভেবেছিল, এই অবস্থা থেকে হয়তো মুক্তি নেই। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতালোভী সরকার পতন হয়েছে। এখন জনগণ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছে, তাই আগের মতো শাসনব্যবস্থাকে তারা আর মেনে নেবে না।
জামায়াত নেতা স্পষ্ট করে বলেন, সংবিধান সংশোধন ছাড়া নির্বাচন হলে আবারও স্বৈরাচারী শাসন ফিরে আসতে পারে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার করে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। তাহলেই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার পল্লীশ্রী মহাবিদ্যালয় অডিটরিয়ামে শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে আয়োজিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক সমন্বিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুক্তার হোসেনের সভাপতি বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, ডুমুরিয়া উপজেলা নায়েবে আমীর গাজী সাইফুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুর রহমান ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সভাপতি ইউসুফ ফকির, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ দেব প্রসাদ মন্ডল। স্বাগত বক্তৃতা করেন কলেজ অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র সরদার। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি শেখ মোসলেম উদ্দিন, অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন সেখ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা ফরহাদ হোসেন, ছাত্র শিবির নেতা হুসাইন আহমদ, আবু তাহের, সামিদুল হাসান লিমন, মফিজুর রহমান প্রমুখ।
মন্তব্য করুন

