বৃহস্পতিবার
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘গ্রামীণ নারীদের জন্য ‘আমার আয়ের সংসার’ প্রকল্প করা হবে’

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণায় জানায়, নারীবান্ধব নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্রেস্টফিডিং কর্নার এবং নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট ও নামাজের ব্যবস্থা করা হবে। জীবনব্যাপী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সুযোগ চালু করে নারীদের কর্মজীবনে ফিরে আসার পথ তৈরি করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টার (Day Care Centre) উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়ানো হবে।

ইশতেহারে বলেন, ‘আমার আয়ের সংসার’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করা হবে। এর জন্য হাঁস-মুরগির খামার, গবাদি পশু পালন, মাছ চাষ ইত্যাদি প্রকল্প তৈরিতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল শেরাটনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি জানান, নারীর স্বাস্থ্য ও খেলাধুলা মানসিক স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও ক্যান্সার সচেতনতায় প্রতিটি জেলায় নারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও জানান, নারীর ন্যায্য সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং শিশুর প্রতি বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠন করা হবে। জাতীয় নারী সুরক্ষা টাস্কফোর্স গঠন করে সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া ‘নারী চলবে নির্ভয়ে’ লক্ষ্য বাস্তবায়নে, নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস (পিক আওয়ারে), গণপরিবহনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, দোতলা বাসে আলাদা কম্পার্টমেন্ট চালু, ইমার্জেন্সি কল নম্বর চালু করা হবে ও নারীর নিরাপত্তায় ইমার্জেন্সি পোল স্থাপন করা হবে ।

তিনি আরো জানান, নারীর সম্পত্তি অধিকার রক্ষায় ‘সম্পত্তি সুরক্ষা কমিটি’ গঠন করা হবে। উত্তরাধিকার সম্পত্তির মামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের দ্রুত বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। নারীর প্রতি সহিংসতায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ ও ভুক্তভোগী সাপোর্ট সেন্টার চালু করা হবে।

তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রকৃত তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) মানুষ শনাক্ত করে পুনর্বাসন করা হবে ও তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও চাকরির কোটা সংরক্ষণ করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নারী, শিশু ও পরিবারের উন্নয়নে পরিবার কাউন্সেলিং ও মোটিভেশন সেন্টার চালু করা, নিরাপদ বিদ্যালয় কর্মসূচি ও মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অনুদান ও সেবার পরিসর বাড়ানো হবে। নারীর সম্পদের অধিকার নিশ্চিতে ধর্মীয় প্রচারণা বাড়ানো হবে।

ভুক্তভোগী নারীর সব ধরনের আইনি, মানসিক, আর্থিক সহায়তার জন্য প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে।

জামায়াত আমির আরো জানান, অভাবগ্রস্ত, সুবিধাবঞ্চিত সধবা ও বিধবা নারীদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্পের মাধ্যমে সাবলম্বী করার লক্ষ্যে এককালীন পুঁজি সরবরাহ করা ও তদারকি করা হবে। হাসপাতালে ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে ভুক্তভোগী নারী ও নারী আসামির জন্য নারী চিকিৎসকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

দরিদ্র গর্ভবতী ও প্রসূতি নারী এবং শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির জন্য সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে। শিশু খাদ্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর (VAT) থাকবে না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিকিৎসা, শিক্ষা, ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের জন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানান তিনি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X