

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামীকাল ঘোষণা করতে যাচ্ছে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার। জুলাই আকাঙ্ক্ষার উপর ভিত্তি করে ‘জনতার ইশতেহার’ নামকরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে জোর দিয়ে এই নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুত করেছে জামায়াতে ইসলামী।
জানা গেছে ঘোষিত ইশতেহারে থাকবে বৈষম্যহীন এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলার বার্তা। দেশ বিনির্মাণের গুরুত্ব দিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এ ইশতেহার বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক নীতি-নির্ধারক।
সূত্র মতে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে ফার্স্ট হান্ডেড ডেইজ প্রোগ্রাম নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দুর্নীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে নির্মূলের শপথ করে ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া প্রথম ১০০ দিন এবং পাঁচ বছর কী কী করবে তারও বিস্তারিত পরিকল্পনা থাকবে বলে জানা গেছে।
জামায়াতের প্রচার বিভাগের এক দায়িত্বশীল নেতা এনপিবি নিউজকে জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা মানের হোটেলে ইশতেহার ঘোষণা করবে জামায়াত। এতে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বাংলাদেশে বিদেশি প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একজন নেতা এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘এই ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে দেশের আপামর জনসাধারণের মতামতের ভিত্তিতে। এখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ইশতেহারে দেশের অর্থনীতির গুণগত মান পরির্বতনের জন্য শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। স্বল্প শিক্ষিতদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি আইসিটি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার পরিকল্পনা পেশ করা হবে। বিশেষ সংখ্যালঘুদের মধ্য থেকে বেরিয়ে আসতে চায় জামায়াত। সকল নাগরিক দেশে সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে। তাছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র, টিন সার্টিফিকেট, হেলথ কার্ডসহ সবকিছুকে এক জায়াগায় নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে দলটি।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. হাফিজুর রহমান এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘সরকার গঠন করতে পারলে জামায়াত তরুণদের দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার সবধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সব মানুষের হাতে কাজ তুলে দিতে চায় জামায়াত। শিক্ষাব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন করে কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থায় জোর দেওয়া হবে।’
তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনারত হাফিজুর রহমান বলেন, ‘দুর্নীতি নির্মূল করতে পারলে দেশের অধিকাংশ সমস্যা সমাধান হয়ে যবে। তাই ১০০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যানেই আমরা দুর্নীতিকে বিদায় জানাতে চাই।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারে জনমত যুক্ত করতে গত ১০ ডিসেম্বর ‘জনতার ইশতেহার’ ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে জামায়াত। প্ল্যাটফর্মে আমরা ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষ মতামত পেয়েছি। লিখিত মতামতের পাশাপাশি অনেকেই অডিও এবং ভিডিও করে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। যেখানে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে। এর পাশাপাশি জাতীয়, বিভিন্ন খাতভিত্তিক, ৩০০ সংসদীয় আসনভিত্তিক, পেশাভিত্তিক, অঞ্চল-শহর ও জেলাভিত্তিক খাতে নানা মতামত দেয় নাগরিকরা। সেই মতামতগুলো যাচাই-বাছাই করে জামায়াতের ইশতেহারে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এ ইশতেহারের নামকরণ করা হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতৃত্বে জোটে আছে জুলাই আন্দোলনের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এছাড়া রয়েছে মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, কর্ণেল অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি ও বাংলাদেশ লেবার পার্টি।
এই জোটে থাকার কথা ছিল চরমোনাই পীরের দলের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে বেশ কিছু মতপার্থক্যের কারণে তারা এ জোটে অংশ নেয়নি। শেষ পর্যন্ত জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের দলগুলো ইসলামী আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করেছিল।
মন্তব্য করুন
