

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। যা গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট জোয়ার পায়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে।
নির্বাচনী কার্যক্রমে বর্তমানে প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত বৈধ ও মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া উভয় প্রার্থী পক্ষে-বিপক্ষে আবেদনের আপিল শুনানি। ১০ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই শুনানি ধাপে ধাপে আপিল সংখ্যা বিন্যাস অনুযায়ী চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
নির্বাচন আসলে সামনে আসে প্রার্থীদের নানান বিষয়। যার মধ্যে-সম্পত্তির হিসেব, আয়ের হিসেব, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং মামলা বা দণ্ডনীয় তথ্য। এবারের নির্বাচনেও আলোচনায় এসেছে এসব বিষয়। দ্বৈত নাগরিকত্ব গোপন করে এর আগেও সংসদ সদস্য হয়েছেন অনেকে।
এবার এমনই এক ঘটনা আলোচনায় এসেছে সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে। এম এ মুহিত নামে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীর পরিচয় হুবুহু মিলে গেছে এক ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে।
ইসিতে জমা দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের নভেম্বরে জন্মগ্রহণকারী এম এ মুহিত পেশায় একজন চিকিৎসক। হলফনামায় বলা হয় তিনি দ্বৈত নাগরিক নয় এবং দেশের বাইরে আয়ের কোনো উৎস নেই। মুহিতের কন্যার নাম শামামা মুহিত, যিনি একজন গৃহিণী।
এইচএইচইডি কনসালটেন্ট লিমিটেড নামে একটি কোম্পানির তথ্য পাওয়া যায় ব্রিটেনের নিবন্ধিত কোম্পানির ওয়েবসাইটে। এই কোম্পানিতেই এম এ মুহিত নামের একজন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন পরিচালক হিসেবে। ২০১৫ সাল থেকে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা এই মুহিতের জন্মও ১৯৬৯ সালে নভেম্বরে এবং তিনিও পেশায় একজন চিকিৎসক। ব্রিটিশ নাগরিক এম এ মুহিত এবং সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের এম এ মুহিত একই ব্যক্তি কিনা এমন প্রশ্নই উঠেছে সাধারণ ভোটার থেকে সিরজগঞ্জের সকলের মনে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী এম এ মুহিত জানিয়েছেন, তিনি সবসময় বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন। লেখাপড়া করতে ব্রিটেন গিয়েছিলেন কিন্তু নাগরিকত্ব নেয়ার কথা অস্বীকার করেন মুহিত। এসময় তার মেয়ে শামামা মুহিতের কথা জানতে চাইলে এড়িয়ে যান এই সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী।
সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যদি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করেন তবে দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে তিনি সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে তিনি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে প্রার্থী হতে বাধা থাকবে না।
মন্তব্য করুন
