

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজনীতির মাঠে বিরোধী দলের ওপর জুলুম-নির্যাতনের দৃশ্য বাংলাদেশে প্রায় স্বাভাবিক চিত্র। তবে গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই চিত্র ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। মূল রাজনৈতিক সংগঠন তো বটেই, পেশাজীবী থেকে শিক্ষার্থী সংগঠন—কেউই বাদ যায়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়্গ। তবুও রাজনীতির মাঠ ছাড়েননি নেতাকর্মীরা।
এমনই একজন ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম আরিফ। টাঙ্গাইলে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আরিফ ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তার আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। এরপর ছাত্রদলের রাজনীতিতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জায়গা করে নেন।
২০১৬ সালে তিনি মাস্টারদা সূর্যসেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়ে টানা চার দিন হাসপাতালে আইসিইউতে থেকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ফেরেন আরিফ। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল হত্যা মামলায় রিমান্ডেও ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রামপুরায় পুলিশের টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং মস্তিষ্কে আঘাত পান। একই বছরের ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত “মার্চ ফর জাস্টিস” কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় ঢাকার হাইকোর্টের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় যেসব নাম বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তাদের মধ্যে অন্যতম বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ। দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনীতি, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার কারণে তাকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের একজন হিসেবে দেখছেন অনেক নেতাকর্মী।
ছাত্রদল নেতা আরিফকে রাজপথের কর্মসূচির পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদলের কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ এবং সংগঠনের কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। বর্তমানে তিনি প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে ইএমবিএ কোর্সে অধ্যয়নরত।
ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম আরিফ এনপিবি নিউজকে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে থেকে ভূমিকা রেখেছি। দেশের সংকট ও সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েই ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। আমাদের ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আগামীর ছাত্রদলের নেতৃত্ব ত্যাগীদের মধ্যে থেকেই বাছাই করবেন। তার যেকোন সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে শিরধার্য।
মন্তব্য করুন