

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে এবার বিএনপি ৩৬টি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি আসন পেতে যাচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এমপিদের তুলনায় সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিরা সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কতটা পিছিয়ে?
‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস), ১৯৭৩’ বা ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এটি সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এটিতে সংশোধন আনা হয়।
আইন অনুযায়ী, আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে একজন সংসদ সদস্য প্রতি মাসে নির্ধারিত ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর পাশাপাশি তিনি ন্যাম ভবনে একটি ফ্ল্যাট, পরিবহন সুবিধা, উন্নত চিকিৎসা ও বিমা সুবিধা ভোগ করেন।
দৈনন্দিন যাপনের জন্য তারা মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা এবং বিবিধ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য ৬ হাজার টাকা ভাতা পেয়ে থাকেন।
এছাড়া মেয়াদকালে একজন সংসদ সদস্য নির্ধারিত শর্তে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর ছাড়াই আমদানি করতে পারেন। পাঁচ বছর পর একই শর্তে আবার নতুন একটি গাড়ি আমদানিরও সুযোগ পান। তবে এবারের সংসদের সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, সংরক্ষিত এবং সরাসরি ভোটে নির্বাচিতদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সংসদ সদস্য একই। তাদের যোগ্যতা এবং সুযোগ-সুবিধা একই।
সংসদ সদস্যদের অধিবেশন, কমিটির সভা ও দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের জন্য রেল, বিমান বা নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে যাতায়াতে কিলোমিটারপ্রতি ভাতা নির্ধারিত আছে।
এছাড়া দেশে যাতায়াতের জন্য বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধাও প্রদান করা হয়।
এর বাইরে, সংসদ সদস্যরা সংসদ অধিবেশন, সংসদীয় কমিটির সভা বা দায়িত্বসংক্রান্ত অন্য কোনো কাজে দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। এ ছাড়া সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারিত হারে প্রদান করা হয়।
পাশাপাশি সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পেয়ে থাকেন। এর পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান।
সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকার বিমা সুবিধা রাখা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে এই বিমা কার্যকর হয়। এ ছাড়া প্রত্যেক সংসদ সদস্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় করার বিধান আছে।
সংসদ সদস্যদের বাসভবনে টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা দেওয়া হয়।
সংসদ সদস্যরা যেসব ভাতা পান, সেগুলো আয়করমুক্ত। অর্থাৎ এসব ভাতার ওপর কোনো আয়কর দিতে হয় না। এছাড়া বিগত সময়ে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় প্লটও পেয়েছেন এমপিরা।
মন্তব্য করুন
