

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের এবং বিকালে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এই শপথের মধ্য দিয়ে দেশের দায়িত্ব যাচ্ছে নতুন সরকারের হাতে।
এদিকে বিরোধী দলে থাকবেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। শপথের আগেই দলীয় পদ ছেড়ে দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। নির্বাচিতদের মধ্যে মহানগর ও জেলার আমির বা সেক্রেটারির দায়িত্বে যারা রয়েছে তারা সেই পদ ছেড়ে দেয়ার পরেই শপথ বাক্য পাঠ করবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একজন সংসদ সদস্য এই তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের সাথে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হওয়ার ফলে দেশের শাসন ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন আসছে। প্রস্তাবিত কাঠামোতে জাতীয় সংসদ গঠিত হবে নিম্নকক্ষ এবং ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ নিয়ে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ২১২ আসনের নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি জোট। অন্যদিকে সংসদে বিরোধী দলে থাকবেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বিজয়ী সংসদ সদস্যরা। কিন্তু এখন আলোচনায় রয়েছে কে হচ্ছেন বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতি?
বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। এছাড়া মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমানের নামও রয়েছে আলোচনায়। তবে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে ১১ দলের শরিকদের মধ্যে এনসিপির (দক্ষিণাঞ্চল) মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ হতে পারেন বিরোধী দলের হুইপ।
সূত্র মতে, বিরোধীদলীয় উপনেতার তালিকায় ৪ জনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নাম রয়েছে সবার আগে। জুলাই আন্দোলনের সেনাপতি হিসাবে তাকেই পছন্দ করা হচ্ছে বেশি। যদি জামায়াতে ইসলামী থেকে উপনেতা করা হয় সেক্ষেত্রে দলের তিনজন নায়েবে আমিরের নাম এসেছে। তারা হলেন- অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এটিএম আজহারুল ইসলাম এবং ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এর মধ্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সম্ভাবনা বেশি বলে জানা গেছে।
১১ দলীয় জোটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৮ আসন পেয়েছে জামায়াত। তবে জামায়ত চায় না কোনো কারণে ১১ দলের মধ্যে ফাটল ধরুক। তাই ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতিসহ যে কোনো বিষয়ে ছাড় দেয়ার পক্ষে রয়েছে জামায়াত।
এবার সরকারি দলের পাশাপাশি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতসহ ১১ দল। বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। সোমবার বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এমনটা জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ধাপে ধাপে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা তার কাছে শপথ নেবেন। সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ সংসদ সচিবালয়ের এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ইসি সচিব বলেন, সংসদ সচিবালয় থেকে সিইসি মহোদয়কে শপথ পাঠের সময় ও তারিখের বিষয়ে পাঠিয়েছে। দুটি শপথই পড়াবেন তিনি। সকাল ১০টা থেকে এ শপথ পাঠ হবে।
সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এ শপথ আয়োজন করা হবে। এক্ষেত্রে দল বা জোটভিত্তিক ও স্বতন্ত্রদের আলাদা আলাদা শপথ পড়ানো হবে।
সকালে সংসদ সদস্যদের শপথের পর বিকালে সংসদে দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ হবে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি।
বৃহস্পতিবার ভোটের পর শুক্রবার রাতে ২৯৭ আসনে নির্বাচিতদের গেজেট করা হয়। সোমবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসন রেখে বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেন। সেক্ষেত্রে মঙ্গলবার ২৯৬ জন সংসদ সদস্য শপথ নেবেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট গ্রহণ স্থগিত রয়েছে। ২৯৯টি আসনের মধ্যে দুটি আসনে জয়ী বিএনপির প্রার্থীর ফলাফল প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২ আসনে জয় পেয়েছে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে দলগতভাবে ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। দলটির নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিক এনসিপি ৬টি, খেলাফত মজলিস ৩টি মিলিয়ে জোটগতভাবে তারা আসন পেয়েছে ৭৭টি। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।
মন্তব্য করুন
