

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান প্রশংসা পেলেও মাদক ব্যবসার মূল শিকড় পুরোপুরি উপড়ে ফেলা সম্ভব হচ্ছে না—এমন অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠছে স্থানীয় সচেতন মহলে।
এর আগে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে অভিযান পরিচালনার কারণে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান প্রশংসিত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতেও মাদকবিরোধী অভিযান ও গ্রেপ্তারের একাধিক খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।
কিন্তু এর পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানের নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায় ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। ২৪ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আগৈলঝাড়ায় ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান, কিন্তু মূল হোতারা কোথায়?
স্থানীয়দের প্রশ্ন—মাদকসহ যারা গ্রেপ্তার হচ্ছে, তারা কি কেবল খুচরা বিক্রেতা বা বাহক? নাকি তাদের পেছনে রয়েছে আরও শক্তিশালী কোনো সিন্ডিকেট?
সচেতন মহলের অভিযোগ, কিছু সুবিধাবাদী ও কথিত ‘হাইব্রিড’ রাজনৈতিক নেতা, অসাধু সাংবাদিক এবং পুলিশের কোনো কোনো অসাধু সদস্যের যোগসাজশ থাকলে মাদক ব্যবসার মূল চক্রকে নির্মূল করা কঠিন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা উচিত নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে আগৈলঝাড়ায় পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যেও নানা বিরোধ ও মামলা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ে থানায় হামলার ঘটনায় দুই সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার খবর জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ফলে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের পাশাপাশি পুলিশ, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ভূমিকা নিয়েও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠছে।
‘হলুদ সাংবাদিকতা’ নয়, প্রয়োজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা
মাদকবিরোধী যুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা আর্থিক সুবিধার কারণে আড়াল করা হলে সেটি সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থি। আবার ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে কাউকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে প্রচার করাও সমানভাবে অনৈতিক।
তাই স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি সচেতন মহলের প্রত্যাশা—প্রমাণভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ, অভিযুক্তের বক্তব্য গ্রহণ এবং কোনো পক্ষের চাপ বা প্রলোভনে না পড়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা।
পুলিশকেও হতে হবে জবাবদিহিমূলক
মাদক নির্মূলে পুলিশের কঠোর অভিযান প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযানের নামে কোনো নিরীহ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, কোনো মামলা যেন বাণিজ্যের হাতিয়ার না হয় এবং কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যেন আইনের ঊর্ধ্বে না থাকেন—এ বিষয়গুলোও নিশ্চিত করা জরুরি।
আগৈলঝাড়াকে সত্যিকার অর্থে মাদকমুক্ত করতে হলে মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী, পৃষ্ঠপোষক ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে একই মানদণ্ডে ব্যবস্থা নিতে হবে।
*সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলুক, কিন্তু তা হোক নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রমাণভিত্তিক। রাজনৈতিক পরিচয়, সাংবাদিক পরিচয় কিংবা পুলিশের ক্ষমতা—কোনোটিই যেন মাদক ব্যবসায়ীদের রক্ষাকবচ না হয়।
লেখক: আশরাফুল আলম, গণমাধ্যমকর্মী।


