শুক্রবার
০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় ঐক্যের নতুন মহাকাব্য: জুলাই বিপ্লব, গণআকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্র-সংস্কারের গতিপ্রকৃতি

ড. আসিফ মিজান
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
expand
জাতীয় ঐক্যের নতুন মহাকাব্য: জুলাই বিপ্লব, গণআকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্র-সংস্কারের গতিপ্রকৃতি

২০২৪ সালের জুলাই মাস কেবল একটি পঞ্জিকার পাতা বা সুনির্দিষ্ট সময়কাল নয়; এটি বাংলাদেশের সমকালীন ইতিহাসে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সামষ্টিক প্রতিরোধের এক অবিনাশী মহাকাব্য এবং ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্যের এক শাশ্বত স্মারক। চব্বিশের এই রক্তস্নাত জুলাই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চিরায়ত সত্যকে পুনরুজ্জীবিত করেছে—জনসমষ্টি যখন একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সমবেত হয়, তখন যেকোনো স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী শক্তির পতন অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।

ইতালীয় রাষ্ট্রচিন্তাবিদ আন্তোনিও গ্রামসির ভাষায় বলা যায়, দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বাংলাদেশে যে ফ্যাসিবাদী ‘হেজেমনি’ বা সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম ছিল, তার নিগড় থেকে মুক্তি পেতে দেশের সর্ববৃহৎ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং অন্যতম প্রধান দল জামায়াতে ইসলামীসহ প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক শক্তিগুলো দীর্ঘকাল ধরে একটি সম্মুখ সমরে (War of Position) লিপ্ত ছিল। ইতিহাসের এক অনিবার্য বাঁকে ‘জুলাই বিপ্লব’ সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের এক চূড়ান্ত ও বৈপ্লবিক স্ফুলিঙ্গ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল।

এই গণঅভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি ছিল অকুতোভয় তরুণ ছাত্রসমাজ, যাদের আত্মত্যাগ দেশের আপামর জনতাকে অবদমিত অবস্থা থেকে জাগ্রত করেছে। সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ঐতিহাসিক মোড় নেয় ১৫ জুলাই, যখন রংপুরের আবু সাঈদ বুক পেতে রাষ্ট্রীয় বুলেটের মুখোমুখি হন। সাঈদের সেই মহিমান্বিত আত্মত্যাগ সমাজমানসে এক অভূতপূর্ব মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর (Psychological Transformation) ঘটায়। মুহূর্তের মধ্যে শ্রমজীবী, পেশাজীবী ও সাধারণ নাগরিকসহ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ রাজপথে নেমে আসে। দলমত নির্বিশেষে গড়ে ওঠা এই গণবিক্ষোভ কালক্রমে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। পরিশেষে, ছাত্র-জনতার অপরাজেয় ঐক্যের মুখে তৎকালীন সরকারপ্রধানের পলায়নপর বিদায় দেশের ইতিহাসে এক নতুন রাজনৈতিক বসন্তের উন্মোচন করে।

তবে এই অভূতপূর্ব বিজয়ের পটভূমি রচিত হয়েছে সহস্রাধিক শহীদের রক্ত, কয়েক হাজার মানুষের পঙ্গুত্ব এবং অসংখ্য তরুণের চোখ ও অঙ্গহানির মতো এক অপূরণীয় ত্যাগের বিনিময়ে। বহু মানুষ আজো সেই স্মৃতির তীব্র শারীরিক ও মানসিক ক্ষত বহন করছেন। এই বিপুল আত্মত্যাগের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি সমতাভিত্তিক, স্বাধীন ও ন্যায়বিচারপূর্ণ নতুন সমাজ বিনির্মাণ—যা গত পাঁচ দশকের পুঞ্জীভূত রাজনৈতিক ক্লেদ ও প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়কে সমূলে উৎপাটন করবে। দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে পুরোনো সেই স্বৈরাতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি দেখার জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল ও টেকসই সংস্কারের জন্য।

রাষ্ট্র-সংস্কারের পথরেখা: বিএনপির ঐতিহাসিক ৩১ দফা ও বিগত গণভোটের অসারতা

জন ফিলিপ লকের ‘সামাজিক চুক্তি’ (Social Contract) তত্ত্ব অনুযায়ী, রাষ্ট্রের বৈধতা নির্ভর করে জনগণের সম্মতির ওপর। স্বৈরাচার পতনের অনেক আগেই দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং তার সমমনা দলগুলো অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে রাষ্ট্র মেরামতের ‘৩১ দফা’ রূপরেখা ঘোষণা করেছিল। এই ৩১ দফার মধ্যেই নিহিত ছিল দেশের বিচারবিভাগ, প্রশাসন, সংসদ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত পরিবর্তনের এক বাস্তবসম্মত ব্লু-প্রিন্ট—যা আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন করে চলেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর এই ঐতিহাসিক ঐকমত্যই ছিল স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি।

তবে স্বৈরাচার পতনের পর বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জনআকাঙ্ক্ষাকে ধারণের নামে যে ‘জুলাই সনদ’ এবং পরবর্তী সময়ে ‘ফেব্রুয়ারি গণভোট ২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে গভীর সংশয় ও যৌক্তিক বিতর্ক রয়েছে। সবচেয়ে বড় সংকটের জায়গাটি ছিল—ঐক্যমত কমিশনে দলগুলোর সসম্মত সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের সামনে আয়োজিত মহাসম্মেলনে সর্বসম্মতভাবে যে ‘সংস্কার সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুকৌশলে তা-ও আমূল পাল্টে দিয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা না করেই এমন একতরফা রদবদল এক ধরণের রাজনৈতিক চাতুর্য তৈরি করেছিল। এর পরেই মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর সেই দীর্ঘ পরিশ্রমে অর্জিত জাতীয় ঐকমত্যকে পাশ কাটিয়ে একপেশেভাবে গণভোটের আয়োজন করা হয়।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, একটি বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জটিল কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়গুলোকে যখন কেবল ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—এর মতো সরল ও একরৈখিক ফ্রেমে বন্দি করা হয়, তখন তা জিন-জ্যাক রুশোর ‘সাধারণ ইচ্ছা’ (General Will)-র অপপ্রয়োগে রূপ নেয় এবং বিষয়টি অনেকটাই ‘সোনার পাথর বাটির’ মতো বাস্তবতাবিবর্জিত হয়ে পড়ে। সেই গণভোটে যে চারটি মূল প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, সেখানে নাগরিকদের স্বাধীন মতপ্রকাশের পূর্ণ সুযোগ ছিল না। একজন সচেতন নাগরিকের পক্ষে হয়তো তিনটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ এবং একটি প্রশ্নে ‘না’ বলার যৌক্তিক প্রয়োজন ছিল; কিন্তু সেই বিভাজিত মত দেওয়ার (Split Voting) কোনো সুযোগ ব্যালটে রাখা হয়নি। উপরন্তু, তৎকালীন সময়ে ওই গণভোটে রাষ্ট্রীয় রাজস্বের বিপুল অর্থ ব্যয় এবং প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর যে প্রয়াস দেখা গিয়েছিল, তা ছিল অনভিপ্রেত।

কাজেই, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও দূরদর্শী মহলে জুলাই সনদের অগণতান্ত্রিক বা ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া, সর্বসম্মত সংস্কার সনদ পাল্টে দেওয়ার অপচেষ্টা এবং ওই গণভোটের একরৈখিক রায়ের বিষয়ে যে যৌক্তিক প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সঠিক ছিল। এটি কোনো বিচ্যুতি ছিল না, বরং তা ছিল প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্বঘোষিত রূপরেখার প্রতি এক ধরণের ঐতিহাসিক বিশ্বস্ততা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান নির্বাচিত সরকার জনগণের সেই অকৃত্রিম ম্যান্ডেটকে ধারণ করেই আজ অত্যন্ত প্রাজ্ঞতার সাথে দেশ পরিচালনা করছেন। যেকোনো ধরনের কৌশলগত জটিলতা বা সংস্কার প্রক্রিয়ায় অতীতে কৃত্রিম দীর্ঘসূত্রতা ও চাতুর্য তৈরির যে অপচেষ্টা হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা শক্ত হাতে দমন করে কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহলের ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছে।

সুশাসন, ন্যায়বিচার ও বর্তমান সরকারের অগ্রযাত্রা

সংকটকালীন রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘ট্রানজিশনাল জাস্টিস’ (Transitional Justice) বা রূপান্তরকালীন ন্যায়বিচার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয়। একজন অপরাধবিজ্ঞানী ও বিশ্লেষক হিসেবে আমি মনে করি, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াটি কিছুটা শ্লথগতির ছিল, যা তৎকালীন সময়ে জনমনে এক ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করেছিল। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিচারিক দায়বদ্ধতা (Judicial Accountability) নিশ্চিতকরণে তৎকালীন দীর্ঘসূত্রতা জনগণের মনে ভুল বার্তা দিচ্ছিল। একই সাথে, পতিতসি শক্তিগুলোর পুনর্বাসন বা আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের যেকোনো গোপন বা প্রকাশ্য অপচেষ্টাকে সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা বাঞ্ছনীয় ছিল।

বর্তমান নির্বাচিত সরকার জনগণের সেই স্পর্শকাতরতা ও আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করছে। দেশ এখন রূপান্তরকালীন জটিল সময় পার করে একটি টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে প্রজ্ঞা ও পরিপক্কতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে জাতীয় ঐক্যের অপরিহার্যতার কথা অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে উল্লেখ করেছেন এবং বিরোধী দলের সাথে সংলাপ ও যৌথ প্রয়াসের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার যে সদিচ্ছা ব্যক্ত করেছেন, তা নিঃসন্দেহে দেশের গণতন্ত্রকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান যেভাবে জাতীয় স্বার্থে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং একই সাথে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে সরকারকে গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে চলেছেন—তা তাঁর রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও দেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ।

ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার পরীক্ষা ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি

অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূ-রাজনীতি। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ‘নব্য-বাস্তববাদ’ (Neo-realism) তত্ত্ব অনুযায়ী, একটি রাষ্ট্রের টিকে থাকা এবং নিরাপত্তা নির্ভর করে তার ক্ষমতার ভারসাম্য ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির ওপর। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের ‘বড় ভাই সুলভ’ (Big Brotherly) আচরণ এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ আমাদের পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা। বাংলাদেশ অবশ্য ইতিমধ্যে তার কূটনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছে। প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ঢাকা তার সার্বভৌম ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। সামরিক, কৌশলগত, বিনিয়োগ এবং তিস্তাসহ পানি ব্যবস্থাপনায় চীনের সুনির্দিষ্ট সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি বর্তমান সরকারের এক বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য। কিন্তু এই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অসন্তোষের কারণ হয়েছে।

আমাদের কূটনৈতিক কৌশল কোনো রাষ্ট্রকে অসন্তুষ্ট করার জন্য নয়, বরং সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে। একই সাথে, ‘জনগণের কূটনীতি’ (People's Diplomacy) চালুর মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে, যাতে যেকোনো বহিরাগত মনস্তাত্ত্বিক চাপ বা হুমকি আমরা সামষ্টিক শক্তির মাধ্যমে মোকাবিলা করতে পারি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিভাজনের হাতিয়ার না বানিয়ে, সেটিকে জাতীয় সংহতির অংশ করতে হবে; অতীত যেন বর্তমানের সম্প্রীতির রাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত না করে।

জুলাই বিপ্লব আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে চরম সংকটে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজয়ী হতে হয়। স্বৈরাচার পতনের এই লড়াইয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অনন্য ও ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ সমকালীন ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। আন্দোলনকে চূড়ান্ত বিজয়ের প্রান্তে নিয়ে যেতে গিয়ে ফ্যাসিবাদের বুলেটের সামনে বুক পেতে শহীদ হয়েছেন ছাত্রদলের টেকনাফ পৌর শাখার নেতা মো. আলী জোহানি, শ্রীনগর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. সানি, চুয়াডাঙ্গার ওয়াশিম আসলাম আকরাম, নোয়াখালীর আসিফ আসহাব নোমান কিংবা ঢাকার হৃদয় আহমদের মতো অকুতোভয় সূর্যসন্তানরা।

শহীদ ওসমান হাদীসহ এই বীরদের ত্যাগ ও রক্তঋণ বুকে ধারণ করে আমাদের যেকোনো ভূ-রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। কোনো কৃত্রিম গণভোট বা একপেশে প্রক্রিয়া নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐতিহাসিক ঐকমত্য এবং বিএনপির দূরদর্শী ৩১ দফাকে ধারণ করে যে সংস্কার সনদ তৈরি হয়েছিল, তার আলোকেই আজ রাষ্ট্র-সংস্কারের প্রকৃত মেলবন্ধন ও পূর্ণতা আসছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ এই জাতীয় ঐক্যই হোক আগামী দিনে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক মুক্তি ও অগ্রযাত্রার মূল রক্ষাকবচ। জুলাই ২০২৪ অমর হোক।

লেখক: প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Portugal VS Croatia
Scheduled
03 Jul, 05:00 AM
VS
World Cup