

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আমাদের গ্রাম দশমী, (দামুড়হুদা)। গ্রামটিতে দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের কার্যালয় স্থাপিত, তাই বলা হয় দামুড়হুদার প্রাণকেন্দ্র।
গ্রামটির দক্ষিণে হাউলী, পশ্চিমে দেউলী ও পার-দামুুড়হুদা এবং উত্তরে অবস্থিত দামুড়হুদা গ্রাম, আর এ গ্রামের ভিতর দিয়ে বয়ে গেছে মাথাভাঙ্গা নদী। যা আমাদের প্রাণ! আমাদের ঘ্রাণ!
আমাদের গ্রাম দশমী হলেও দামুড়হুদা নামেই বেশি সুপরিচিত। কারণ এ গ্রামের চৌরাস্তার মোড় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের কার্যালয়। এ পরিষদের ভিতর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ৩৩টি দফতর। পরিষদটি থানা থেকে উপজেলায় রুপান্তরিত হয় ১৯৮৩ সালে এবং প্রথম নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন মোসলেহ উদ্দীন আহম্মেদ।
উপজেলা পরিষদটির দক্ষিণ-পশ্চিম ঘেঁসে অবস্থান করছে, ১ শত ১৪ বছরের পুরোনো অর্থাৎ ১৯১২ সালে স্থাপিত, ঐতিহ্যবাহী দামুড়হুদা মডেল থানা। থানা রোডে অবস্থান করছে দামুড়হুদা উপজেলা পোষ্ট অফিস, দামুড়হুদা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, দামুড়হুদা তুলা উন্নয়ন ও দামুড়হুদা বীজ ও বন বিভাগের অফিস।
এছাড়াও গ্রামের প্রধান সড়ক ঘেঁষে অবস্থান করছে দামুড়হুদা মিনি স্টেডিয়াম। এ স্টেডিয়ামের পুবে রয়েছে দামুড়হুদা শহীদ মিনার আর পশ্চিমে দামুড়হুদা ডাকবাংলো। ডাকবাংলোর সম্মুখে রয়েছে দামুড়হুদা অডিটোরিয়াম, দামুড়হুদা শিল্পকলা একাডেমী ও দামুড়হুদা মুক্তিযুদ্ধ সংসদের অস্থায়ী কার্যালয়।
গ্রামের ভিতরে রয়েছে দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিষদ। পরিষদটি স্থাপিত হয় ১৯৬৪ সালে এবং প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মরহুম শওকত আলী খান। এ পরিষদের দক্ষিণে অবস্থান করছে, ১ শত ১৩ বছরের পুরোনো অর্থাৎ ১৯১৩ সালে স্থাপিত, ঐতিহ্যবাহী দামুড়হুদা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন প্রধান শিক্ষক মরহুম হেলাল উদ্দিন।
আমাদের গ্রামে নারী শিক্ষার প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে ৫১ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৭৫ সালে। দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল নামের এ নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে, এ গ্রামেরই প্রধান সড়কের সাথে। এ স্কুলটির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন নিমাই চন্দ্র প্রামানিক।
মূলত তাঁর নেতেৃত্বেই স্কুলটির ভিত্তি সুদৃঢ় হয় এবং সময়ের সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক মানসম্পন্ন শিক্ষার মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করে। যা নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আমাদের গ্রামে রয়েছে দশমী ও দশমী বালিকা নামে ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দেশ সেরা ভূষিত দামুড়হুদা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অবস্থান করছে দামুড়হুদা গ্রামের পুরাতন বাজারে।
এ বিদ্যালয়ের একপাশে রয়েছে দামুড়হুদা রিসোর্স সেন্টার এবং এর অনতিঅদূরেই রয়েছে দামুড়হুদা ইউনিয়ন ভূমি অফিস। শিশু শিক্ষার প্রসার ঘটাতে এ গ্রামে রয়েছে কিন্ডার গার্টেন ৫টি ও কওমী মাদ্রাসা ৫টি।
ঐতিহ্যবাহী দামুড়হুদা ডিএস দাখিল মাদ্রাসাটি অবস্থান করছে আমাদের গ্রামের দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে। মাদ্রাসাটি স্থাপিত হয় ১৯৭৮ সালে এবং প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক মরহুম মাওলানা হুরমত আলী।
বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণে কিছুটা অদূরে অবস্থান করছে আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজ। কলেজটি স্থাপিত হয় ১৯৯৪ সালে এবং প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ মো. কামাল উদ্দীন। এ কলেজেরই সন্নিকটে অবস্থিত দামুড়হুদা মডেল মসজিদ।
এছাড়াও এ গ্রামের দামুড়হুদা নামের বাজারে রয়েছে প্রায় ১ হাজারের কাছাকাছি বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অবস্থান করছে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি ব্যাংক, বীমা-সহ অসংখ্য এনজিও প্রতিষ্ঠান।
২০২২ সালের সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী, দশমী গ্রামের জনসংখা ৬৪৮৮ জন আর এ গ্রাম লাগোয়া দামুড়হুদা গ্রামের জনসংখ্যা ৫৭০৭ জন। দামুড়হুদা গ্রামটি চুয়াডাঙ্গা জেলার বহু পুরাতন ও সমৃদ্ধ জনপদ। এ গ্রামে ১৮৬০ সালে প্রথমে মহাকুমা সদর দফতর স্থাপিত হয়, পরবর্তীতে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন চালুর পর ১৮৬২ সালে মহাকুমাটি দামুড়হুদা থেকে চুয়াডাঙ্গায় স্থানান্তরিত করা হয়।
ঐতিহ্যবাহী দামুড়হুদা সদর দীর্ঘদিনের পুরোনো জনপদ এবং মহকুমা সদরের প্রাণকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও নানা জটিলতায় এখনো পৌরসভায় উন্নীত হয়নি। বৃহত্তর অঞ্চল ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তারে ভূমিকা রাখলেও প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতায় এটি বর্তমানে দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদ-এর অধীনে একটি ইউনিয়ন পরিষদ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমান দামুড়হুদাবাসী চায় উন্নয়ন, চায় পৌরসভা, চায় মাদকমুক্ত সমাজ। সে লক্ষে দলমত নির্বিশেষে দামুড়হুদার জনগণ করেছে মতবিনিময় সভা। গত শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনুকে আহবায়ক করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট ১টি কমিটি গঠন করা হয়েছে।