শনিবার
৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভ্যাকসিন যথেষ্ট নয়; নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন

আরিফ বিল্লাহ
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬, ০১:০৫ পিএম আপডেট : ৩০ মে ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
আরিফ বিল্লাহ
expand
আরিফ বিল্লাহ

নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীকে সাবেক গণঅধিকার পরিষদের নেতা ও বর্তমান বিএনপি নেতা মোঃ রাশেদ খান বলেছেন, তাকে ভ্যাকসিন দেওয়া প্রয়োজন। আমি মনে করি, এটা শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা। সব রোগীর ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা যথেষ্ট হয় না; তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা মেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন।

যে ব্যক্তি একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি করে রাজনৈতিক অঙ্গনে অসভ্য রাজনীতির পরিবেশ তৈরি করছেন, তাকে শুধু ভ্যাকসিন দিলেই হবে না, উন্নত চিকিৎসাও প্রয়োজন।

৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অসভ্যতার রাজনীতি, প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অসম্মান করা, ইচ্ছাকৃতভাবে গায়ে পড়ে ঝগড়া ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করা—এসবই তার কর্মকাণ্ডের অংশ। এরপর যখন ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, তখন তিনি বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে দায়ী করেন।

এ ধরনের আচরণ শুধু রাজনীতিতেই নয়, মানুষের সাধারণ জীবনেও বিরূপ প্রভাব ফেলে।

রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবে, সমালোচনা থাকবে, আদর্শিক বিরোধ থাকবে—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু যখন সেই রাজনীতি সীমা অতিক্রম করে ব্যক্তিগত আক্রমণ, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং সমাজে বিভাজন তৈরির হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন তা আর সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার মধ্যে পড়ে না। সাম্প্রতিক সময়ে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বিভিন্ন সময়ে এমন সব বক্তব্য দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে বলে অনেকেই মনে করেন। তার বক্তব্যের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। অনেক ক্ষেত্রে তিনি এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের পরিপন্থী বলে সমালোচিত হয়েছে। প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য, প্রতিপক্ষকে উসকে দেওয়ার মতো বক্তব্য এবং অযথা সংঘাত তৈরির অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

রাজনীতিতে দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির বক্তব্য শুধু দলের কর্মীদের মধ্যেই নয়, সাধারণ জনগণের মধ্যেও প্রভাব ফেলে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, কিছু বক্তব্যে তিনি এমন এক পরিবেশ তৈরি করছেন, যেখানে রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিবর্তে বিদ্বেষ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার সমালোচকরা বলছেন, তিনি প্রায়ই ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেন যাতে রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা বিতর্কের জন্ম হয়।

অনেকেই অভিযোগ করেন, “তিনি যেখানে যান, সেখানেই কোনো না কোনো বিতর্ক তৈরি হয়।” আবার কেউ কেউ বলেন, “রাজনীতিকে শালীনতার জায়গা থেকে সরিয়ে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাওয়াই যেন তার মূল লক্ষ্য।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সাধারণ জনগণের একটি অংশ মনে করেন, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের পরিবর্তে তিনি আলোচনায় থাকতে চমকপ্রদ ও উসকানিমূলক বক্তব্য বেছে নেন।

বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার বক্তব্য ও আচরণ আরও বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করে প্রবীণ ও সিনিয়র নেতাদের নিয়ে কটাক্ষ করাকে অনেকে “অসভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটি প্রকাশেরও একটি গ্রহণযোগ্য ভাষা ও সীমা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ভিন্নমতকে সম্মান করা জরুরি। কিন্তু যদি কোনো নেতা বারবার সংঘাতমুখী আচরণ করেন, তাহলে তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।” অনেক সাধারণ নাগরিকও মনে করেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আরও সংযত ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত, কারণ তাদের বক্তব্য তরুণ প্রজন্মের ওপরও প্রভাব ফেলে।

ডিম নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও তিনি বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে দায়ী করেন। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন হলো—যদি বারবার একই ধরনের বিতর্ক ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে সেই পরিবেশ তৈরির জন্য কারা দায়ী? রাজনৈতিক অঙ্গনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে হলে অবশ্যই উসকানিমূলক আচরণ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত, বিভক্তি ও উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। সেখানে দায়িত্বশীল নেতাদের কাজ হওয়া উচিত পরিস্থিতি শান্ত করা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকে শক্তিশালী করা। কিন্তু কেউ যদি বারবার উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ান, তাহলে তা দেশের জন্য কখনোই ইতিবাচক হতে পারে না।

সাধারণ মানুষ এখন শালীন ও দায়িত্বশীল রাজনীতি দেখতে চায়। তারা চায় রাজনৈতিক নেতারা ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, দেশের উন্নয়ন, জনগণের অধিকার ও বাস্তব সমস্যা নিয়ে কথা বলুক। কারণ অসভ্যতা, কাদা ছোড়াছুড়ি এবং উসকানিমূলক বক্তব্য কখনোই একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে সহায়ক নয়।

লেখক: আরিফ বিল্লাহ , সাংগঠনিক সম্পাদক, আমজনতার দল।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন