

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বের প্রত্যাশা নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম এখন জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
রাজনৈতিক মহলের একাধিক সূত্র জানায়, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনা করা হতে পারে।
যদিও আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মইন খান এবং নজরুল ইসলাম খান-এর নামও ছিল, তবে সর্বশেষ সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার আলোচ্য তালিকায় তাঁদের নাম স্থান পেয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। সচেতন মহলের ধারণা, মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য তালিকায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম না থাকায় তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার বিবেচনায় তিনি রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবুও দলীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে তাঁর নাম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দলটি জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে। দলটির আদর্শিক ও সাংগঠনিক ভিত্তি গঠনের সময় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ ও গবেষক হিসেবে তাঁর পরিচিতি সুপ্রতিষ্ঠিত।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ভূতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষকতা জীবনের পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
ড. মোশাররফ পাঁচবার সংসদ সদস্য এবং তিনবার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রী থাকাকালে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর নির্বাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয়। দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া-এর আস্থা অর্জন করে বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিমিতভাষী ও শালীন আচরণ, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সংকট মোকাবিলায় ধৈর্য ও দূরদর্শিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
এসব বিবেচনায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে তাঁর মতো অভিজ্ঞ নেতৃত্ব দায়িত্ব পেলে জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হতে পারে—এমন আলোচনা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট
মন্তব্য করুন
