শুক্রবার
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অনেক প্রতীক্ষার এই নির্বাচন 

কালাম ফয়েজী
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

অনেক প্রতীক্ষার এই নির্বাচন। অনেক প্রত্যাশার এই নির্বাচন।

অনেক আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচন। অবশেষে সেই প্রত্যাশার নির্বাচন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। দেশের আপামর জনতা এই নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আছে। কখন সকাল হবে। কখন তারা ভোট দিয়ে তাদের নাগরিক দায়িত্ব সম্পন্ন করবে। এই নিয়ে তাদের উৎসাহ আগ্রহের কূলকিনারা নেই।

উন্নত দেশগুলোতে নির্বাচন প্রক্রিয়াটা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। কবে কখন কোন নির্বাচন হবে সেটা আগে থেকেই ঠিক থাকে। সে সব দেশের জনগণও ভোটের জন্য আগে থেকেই তৈরি হয়ে যায়। তারা স্বাভাবিকভাবে ভোট প্রদান করে।

কিন্তু আমাদের দেশের এতদিনের চিত্র ছিল ভিন্ন রকম। স্বাভাবিকভাবে দেশের মানুষ ভোট দিবে এতদিন এটা ছিল অকল্পনীয়। মানুষ মনে করতো যে ফ্যাসিজম কায়েম হয়েছে, যে অত্যাচার অবিচার চলছিল, এ জাতি হয়তো কখনো তা থেকে মুক্তি পাবে না। এমনও হতে পারে যে, দেশটা স্থায়ীভাবে আধিপত্যবাদের তল্পিবাহোক হয়ে যাবে।

কিন্তু আল্লাহর কি মহিমা, আল্লাহ যেন নিজ হাতে দেশকে রক্ষা করেছেন। আর দেশের মানুষও জীবন দিয়ে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। অনেক আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর অবশেষে স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

আর মাত্র একটি রাত। ভোরে সূর্য উদিত হওয়ার পরেই মানুষ ভোটের জন্য দাঁড়িয়ে যাবে। আমাদের নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে চলে যেতে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করতে। নামাজ শেষে ভোট দেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে যেতে। প্রত্যেক ভোটারই, তিনি নারী হোন বা পুরুষ, সকাল সকাল যেন ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে যান।

আপনারা লক্ষ্য করেছেন রাজধানী শহর ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরগুলি একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে। শহরের লোকরা ভোট দেয়ার জন্য আপন আপন স্থায়ী ঠিকানায় চলে গেছে। শহরগুলোতে বিরাজ করছে শুনসান নিরবতা। মহাব্যস্ততম ঢাকা মহানগরী খা খা করছে।

শত মাইল বেগে গাড়ি চালালেও সেটাকে থামানোর প্রয়োজন নেই। চারদিকে ঈদের আমেজ। কিংবা তার চেয়েও বড় উৎসব। বাংলার মানুষের কাছে ভোট যে এত প্রিয় সেটা এই দৃশ্য না দেখলে আমরা কিভাবে বুঝতাম।

আমরা জানি এদেশের ৯০ ভাগেরও বেশি মানুষ উচ্চ রাজনীতি সচেতন। তারা রাজনীতি নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তুলতে পছন্দ করে। তাদের প্রধান আলোচনার বিষয় হচ্ছে রাজনীতি। আজ কে ক্ষমতায় আছে। ক্ষমতায় কে থাকলে ভালো হতো। ক্ষমতায় যারা আছেন তাদের কি কি সমস্যা।

এলাকায় যারা কর্তৃত্ব করছেন তাদের কি কি ভুল, কি করলে ঠিক হতো এসব নিয়েই তাদের মুখরোচক আলোচনা। অভাবী বাঙালি ক্ষুধার্ত থাকলেও বড় কথা বলতে ছাড়ে না। এটা তাদের মজ্জাগত স্বভাব। কিন্তু প্রায় দেড় যুগ তাদের রীতিমত মুখ চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। কথা বলতে চাইলেও তারা কথা বলতে পারতো না। মতামত প্রকাশ করতে চাইলেও সে সুযোগ ছিল না। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট সে অবস্থার পরিবর্তন হয়। মানুষের মধ্যে দেখা দেয় ভিন্নরকম উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা।

অনেক সন্দেহ ও শঙ্কার পর অবশেষে নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হল। জনগণ বুঝলো এবার নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে তালবাহানা করলে কারো রক্ষা নেই।

শহর থেকে ভোট দেয়ার উদ্দেশ্যে যারা গ্রামে গেছেন তাদের কেউই খালি হাতে যায়নি। প্রার্থী তাদের খরচ দিবেন এই চিন্তাও তারা করছেন না। বরং তারা প্রিয় প্রার্থীর পক্ষে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করতে পারছেন, সশরীরে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখতে পারছেন, এতেই তাদের পরমানন্দ।

দেশে ৪ কোটির অধিক তরুণ ভোটার। যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ এর মধ্যে তাদের কেউ জীবনে একবারও ভোট দেয় নি। তারা শ্বাসরুদ্ধকর ভাবে অপেক্ষা করছে, সকাল হলেই তারা ভোট দিতে যাবে। নাগরিক হিসেবে প্রথম তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবে। এতে তাদের উৎসাহের সীমা পরিসীমা নেই।

বিষয়টা এখানেই শেষ নয়। নানান প্রচার অপপ্রচার চক্রান্ত ষড়যন্ত্রের কারণেও তারা বেশ সোচ্চার। তারা যে কষ্ট করে ভোট দিবেন, সে ভোটটা যেন গণনা হয়। তাদের প্রার্থী যেন জয়লাভ করে। এসব চিন্তা মাথায় রেখে প্রত্যেকেই বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, সবাই ঘরে ঘরে তারেক রহমানের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন, নেতাকর্মীরা বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করছেন ভোট দেয়ার জন্য। তাদের প্রিয় মার্কাটা কি? মার্কাটা হচ্ছে ধানের শীষ।

এই ধানের শীষ কিসের প্রতীক? উন্নয়নের প্রতীক। বিএনপি কার দল? শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল। যারা দেশের স্বাধীনতা এনেছেন এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

এদেশের জনমানুষের ভালোবাসার মানুষ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া। তাদের সুযোগ্য সন্তান দেশনায়ক তারেক রহমান। তার প্রতীক ধানের শীষ। তিনি ঢাকা- ১৭ অভিজাত এলাকা থেকে নির্বাচন করছেন।

গুলশান বনানী ক্যান্টনমেন্ট এবং ভাসানটেক এলাকায় যেমন বিত্তবান মানুষরা বাস করেন তেমনি তিনটি বড় বড় বস্তিতে বাস করেন পরিচয়হীন মানুষ। সেই জায়গাগুলোতে গমন করেছেন জোবাইদা রহমান, শর্মিলা রহমান, জায়মা রহমান। তারা কথা দিয়েছেন যদি ধানের শীষ জয়লাভ করে তাহলে তাদের আবাসন সুবিধা, চিকিৎসা ও শিক্ষা সমস্যা সহ যাবতীয় সমস্যা দেখবেন। প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দিবেন এবং এলাকাকে চাঁদাবাজ মুক্ত করবেন।

অনেকদিন পর স্বপ্নের মানুষদের চোখের সামনে দেখে তারাও আবেগ আপ্লুত। তারা তো ধানের শীষে ভোট দিবেনই, প্রয়োজনে ধানের শীষকে জেতানোর জন্য আরো বেশি পরিশ্রম করবেন। তারপরও তারা চান তাদের দল বিএনপি জয়লাভ করুক। বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দিক।

সকাল থেকে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ ছিল। আমরা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছি। সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, তারা ঢাকার ভোটার। এজন্যই তারা ঢাকায় থেকে গেছেন। কাল সকালে সবার আগে গিয়ে ভোট দিবেন।

তারপর যদি ভাল মনে করেন দোকান খুলবেন না হলে খুলবেন না।

আজ ঢাকা শহর ফাঁকাই ছিল। মহল্লার দোকান, খাবার দোকান সবই বন্ধ। খাবার দোকানের কর্মচারীরাও ভোট দেয়ার জন্য গ্রামে চলে গেছে। তাদের উৎসাহের সীমা নেই। এই যে সাধারণ মানুষের আগ্রহ, এ দৃশ্য এই দেশের মানুষ প্রথম দেখলো।

বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের আগ্রহ দেখে ভীষণ ভালো লাগছে। তারা যেমনি আগ্রহের সাথে ভোট দিবেন, তেমনি আগামী দিনে দেশ গঠনেও তারা সোচ্চার ভূমিকা পালন করবেন।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X