


জুলিয়াস সিজার আগে থেকেই সম্রাট ছিলেন না। তিনি ছিলেন রোম সাম্রাজ্যের একজন কনসাল ও সেনানায়ক। যুদ্ধে জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি ও প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন এবং সিনেটরদের ভোটে সম্রাট হওয়ার গড়ব অর্জন করেন।
সম্রাট হলেও বেশিদিন রাষ্ট্রক্ষমতা চালাতে পারেন না। কুচক্রীদের চক্রান্ত এবং সহকর্মীদের ষড়যন্ত্রে অকালে তাকে প্রাণ হারাতে হয়। মাত্র পাঁচ বছরের রাষ্ট্রপরিচালনায় তিনি অসামান্য দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন।
জুলিয়াস সিজারের হত্যাকাণ্ডের পর সম্রাট হন তার দত্তকপুত্র অক্টোভিয়াস সিজার ওরফে অগাস্টাস সিজার। তিনি দীর্ঘ সময় পান এবং দেশের শান্তির যুগ সৃষ্টি করেন। তার আমলে সাম্রাজ্যের পরিধি বিস্তৃত হয় এবং শহরে উঁচু উঁচু ইমারত নির্মিত হয়। সারা রোম সাম্রাজ্য জুড়ে শান্তির যুগ সৃষ্টি হয় এবং মানুষ যুদ্ধের বদলে আত্মউন্নয়নের সুযোগ লাভ করে। আমরা একই দৃশ্য দেখতে পাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের বেলায়ও। জিয়াউর রহমান। স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে চলে যান এবং দেশ স্বাধীন করেই ঘরে ফেরেন। ১৯৭৫ সালের নানান অভ্যুত্থান পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার গৌরব লাভ করেন। তিনি দেশের সার্বিক উন্নয়নে সর্বশক্তি নিয়োগ করলেও বেশি দিন কাজ করার সুযোগ পান না। কতক সহকর্মীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
এবার আসা যাক তারুণ্যের প্রতীক তারেক রহমান প্রসঙ্গে। ঝড়তোলা মঞ্চকাঁপানো মাইকফাটানো বক্তব্য দিয়ে জনাব তারেক রহমান তার রাজনৈতিক কর্মকান্ড শুরু করেননি। হাড় হীম করা কোন বক্তব্য দিয়েও তিনি মানুষের হৃদকম্প সৃষ্টি করেননি। বরং বলা চলে মাঠ থেকে উঠে আসা একজন খেটে খাওয়া মানুষের মতোই তিনি তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। তার বক্তব্য সাবলীল সাদামাটা ও অংশগ্রহণমূলক। তিনি যেখানে যাচ্ছেন, যে পথ দিয়ে যাচ্ছেন সর্বত্র মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সবাই তাকে এক নজর দেখার জন্য উদ্বেলিত।
মঞ্চে উঠে তিনি কী করছেন? আলোড়ন সৃষ্টি করা কোনো বক্তব্য রাখছেন না। বরং দর্শক সারির অতি সাধারণদের ভিতর থেকে কাউকে কাউকে ডেকে নিচ্ছেন। তাদের কাছে জানতে চান এলাকার জন্য কি কি করা প্রয়োজন। কি কি সমস্যা অত্র এলাকায় বিরাজমান। তাদের উন্নতির জন্য কি করলে ভালো হবে। তিনি স্থানীয় লোকের মুখে ওই স্থানের সমস্যা এবং তার করণীয় জেনে দিচ্ছেন। কোন রাজনৈতিক নেতার মুখে এমন সাবলীল আচরণ এর আগে কেউ কখনো দেখেনি। সাধারণ দের কাছে মনে হয় জিয়াউর রহমানের মত তারেক রহমান ও তাদের অতিশয় আপনজন। আপনজন হয়েই তিনি তাদের ভেতর থেকে সমস্যাগুলো দূর করে দিতে চান এবং সারা জীবন ধরে সুখ-দুখে তাদের পাশে থাকতে চান। মানুষ তাতেই অভিভূত এবং আনন্দে আত্মহারা। তার নির্বাচনী প্রচারের ধরন নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে তুলনীয়। নাম জানি যে কমিউনিটির সাথে কথা বলেছেন এবং যে অঞ্চলে গেছেন সেখানকার মানুষের রুচি বিশ্বাস অনুযায়ী কথা বলেছেন। ফলে তিনি অতি অল্প সময়ে অল্প শ্রমের সকলের নজর কাড়তে সক্ষম হন এবং তার সুমধুর আচরণে প্রভাবিত হয় সবাই দল বেঁধে তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে।
তারেক রহমানকে আগে থেকেই বলা হতো তারুণ্যের প্রতীক। সেই তারুণ্য ধরে রেখেই তিনি তার নির্বাচনে প্রচারে নেমেছেন। যদিও তার বয়স ৬০, কিন্তু তার আচরণে মনে হয় তিনি ৩০ বছরের যুবক। দেশের তরুণ সমাজ থেকে বৃদ্ধ, স্কুল বালিকা থেকে গৃহের ঘরণী, দোকানের কর্মচারী থেকে কারখানার শ্রমিক, সবাই তার বক্তব্যে যারপরনাই সন্তুষ্ট। সবাই মনে করছে তারেক রহমান তাদের অতিশয় নিকটজন।
কোনরকম প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধ মূলক বক্তব্য নয়। কোন বদলাও নিতে চান না কারো কাছ থেকে। বরং তিনি এসেছেন শান্তির বাণী নিয়ে। শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে চান দেশের শহরে বন্দরে, গ্রাম গঞ্জের প্রতিটি ঘরে ঘরে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভের পর কেবল অফিসের চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ থাকেন নি। বরং তিনি উন্নয়নের বার্তা নিয়ে গ্রামে গ্রামে হাঁটেন। সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের মানসিক গঠনে ভূমিকা রাখেন। চিরদিনের অন্ধকারে পড়ে থাকা বাঙালিকে তিনি নতুন আলোর পথ দেখান। তাদের জাগিয়ে তোলেন এবং উন্নয়নের প্রতীক কোদাল হাতে তুলে দিয়ে কাজের দিকে আহ্বান করেন। তার বক্তব্যে দল মত নির্বিশেষে সবাই কর্মে নিয়োজিত হয়।
তারেক রহমান একই পন্থা অবলম্বন করে এগিয়ে চলেছেন। তিনি শুধু কথা বলছেন না। কথা বলার আগে তাদের কথা শুনে নিচ্ছেন। তারপর তিনি তাদের মত করে গল্পচ্ছলে কিছু বক্তব্য উপস্থাপন করছেন। তাতেই মানুষ অভিভূত।
তিনি বলছেন তার একটা প্লান আছে সেই প্লান বাস্তবায়নের জন্য কতগুলো আইডিয়া আছে। তিনি দেশকে সে প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে চান যেমনটা করেছেন মালয়েশিয়ার মহাভারতের মোঃ অথবা সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান উ।
তিনি বলছেন অন্যদের সমালোচনা করলে কি আমাদের পেট ভরবে? ভরবে না। তাহলে কেন আমরা অন্যের সমালোচনা করব। বরং আমরা উন্নয়নের কথা বলি এবং নিজেদের এগিয়ে নেয়ার কথা বলি।
তিনি জানেন এদেশের মানুষ কাজ পাগল এবং অনুসন্ধানী মানসিকতার অধিকারী। তাদের ঐক্যবদ্ধ করার বদলে দ্বিধা বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। নানান অজুহাতে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। তিনি তাদের জাগিয়ে তুলতে চান এবং প্রয়োজনীয় কাজটা হাতে ধরিয়ে দিতে চান। তাদের সাফল্যের পথে প্রয়োজন সামান্য সহযোগিতা। সে সহযোগিতা দানের বার্তা নিয়ে তিনি তাদের দারি যাচ্ছেন এবং রাষ্ট্রের সেরা সেবাটা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান।
বাংলায় দুটো শব্দ আছে শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ। শিক্ষাটা একমুখী প্রশিক্ষণটা দ্বিমুখী। স্কুলে গেলে আমরা কেবল শিক্ষকের বক্তব্য শুনতে পাই। সে ক্ষেত্রে ছাত্রের কিছু বলার থাকে না। কিন্তু প্রশিক্ষণ অংশগ্রহণমূলক। সেখানে ছাত্র কথা বলবে, শিক্ষক কথা বলবে। সাধারণত কোন একটা বিশেষ বিষয়ের উপর শিক্ষার্থীকে যোগ্য করে তোলাই হচ্ছে প্রশিক্ষণের মূল কাজ। যাতে প্রশিক্ষণ পেয়ে ওই ব্যক্তি কাজটা যথাযথভাবে করতে পারে। প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীরা সাধারণ ছাত্রদের মতো কেবল কথা শুনেই ক্ষান্ত থাকে না । বরং শেখানো বিষয়টা হাতে-কলমে প্রমাণ করে দেখানোর চেষ্টা করে। তারেক রহমানও বিজ্ঞানের থিওরির মত সবকিছু প্রমাণ করে দেখাতে চান। বিষয়টা দুই পক্ষের অংশগ্রহণমূলক। দেশনায়ক তারেক রহমান সেই পন্থা অবলম্বন করেই রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে চলেছেন। যেন তিনি একজন প্রশিক্ষক। কথা শুনছেন এবং কথা বলছেন। তাতেই জনতা বেজায় উৎসাহিত উল্লোচিত। তারা দিনের পর দিন, ঘন্টার পর ঘন্টা আর কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে তার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে তার একটু কথা শোনার জন্য। বিষয়টা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য।
দেশের মানুষ এতদিন এতকাল দেখেছে রাজনৈতিক নেতাদের গালভরা বুলি আর গলাফাটা বক্তব্য। রাজনৈতিক বক্তব্য মানে জনতার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করা। কিন্তু তারেক রহমান সেদিকে গেলেন না মান্ধাতা আমলের সেই গদবাধা ফর্ম বাদ দিয়ে নতুন ফর্মে আবির্ভূত হলেন দেশের কোটি জনতার সামনে। যেন তিনি মাইকেল জ্যাকসনের মতো একজন রকস্টার। তার গান শোনার জন্য দেশের মানুষ দিশেহারা পাগলপারা।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ধান খেতের মধ্য দিয়ে হেঁটেছেন। চাষির সাথে বসে ভাত খেয়েছেন। বিধবা বুড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে তার হাঁড়ির খবর নিয়েছেন, দাওয়ায় বসে ডাবের পানি খেয়েছেন, তিনিও সেভাবেই তার নির্বাচনী প্রচার চালাতে শুরু করেছেন। গ্রামের চাষাভুষা মানে তারা অবহেলিত অসম্মানিত নয়। তারা এক একজন মহামূল্যবান ভোটের মালিক। যারা ভোটের মালিক তাদের মর্যাদা!
তিনি তাদের সে মর্যাদা দিয়েই তাদের পক্ষ থেকে ভালোবাসা পেতে চান। নতুন প্রজন্মের মহানায়ক তারেক রহমান অবিকল তার বাবার প্রতিচ্ছবি। তিনি মর্যাদাপূর্ণ ভোটের দাবি নিয়ে সকলের সামনে হাজির হয়েছেন। যে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন জিয়াউর রহমান। সেই হারিয়ে যাওয়া ভোটের জন্য যুদ্ধ করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আজ তারেক রহমান সেই ভোট পেতে তাদের দরজায় হাজির হয়েছেন।
মন্তব্য করুন