শুক্রবার
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের চাবি আপনার হাতে, “হ্যাঁ ভোট” নিয়ে কি ভাবছেন?

মুত্তাসিমুর রহমান মোক্তার
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৪ এএম আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
গণভোটে হ্যা
expand
গণভোটে হ্যা

গণঅভ্যুত্থান হলো সাধারণত শোষণ, দুর্নীতি বা নিপীড়ন বা কোনো রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক আন্দোলন,সরকার পতন বা কাঠামোগত পরিবর্তনের মুল লক্ষ।

কিন্তু ২০২৪ সালে ৫ আগষ্ট ঘটে যাওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পরবর্তীতে আপান কি প্রত্যাশা ছিল তা নিয়ে যেমন জনগনের মাঝ ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে , তাই সাধারণ জনগনের প্রত্যাশা সামনে রেখে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে,তার রুপরেখা তৈরি করে, গণভোটের মাধ্যেমে জনগনের আশা-আঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে চাচ্ছে অন্তভর্তীকালীন সারকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

এতে রাজনৈতিকা দল পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাছে। তবে, আপনি এক জন সাধারণ নাগরিক হিসাবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’অথবা ‘না’ভোটের দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে আগীর বাংলাদেশ আপনি কেমন চাচ্ছেন।

যদি হ্যাঁ ভোট জয় যুক্ত হয়, তাহলে সংস্কার কমিশনের রূপরেখায় ২০২৪ সালে গঠিত বাংলাদেশের একাধিক সংস্কার কমিশন (যেমন সংবিধান, নির্বাচন, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ ইত্যাদি) এবং তাদের প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো হচ্ছে, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার প্রতিফলিত হবে।

এই রূপরেখায় একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার, স্থানীয় সরকারে স্বায়ত্তশাসন, দুর্নীতি দমন এবং সকল প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যা আপনার আগামীর বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের আশা- আঙ্খা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।

আর ‘না’ভোট জয় যক্ত হলে,বিগত ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারে ন্যায় নব্ব জালিম ফ্যাসিস্ট সরকারের আর্ভিবাব হবে। যার গ্লানি ভোগ করতে হবে ভবিষৎ প্রজন্মেকে যুগ যুগ ধরে। তাই নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে গণ ভোটে ‘হ্যাঁ’জয় ‍যুক্ত করতে হবে।

এদিকে,জুলাই গণঅভ্যুত্থনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সরকার ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা হাতে নিয়ে মাঠে নেমেছে ,আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলার লক্ষে। নিচে দেওয়া হলো ভবিষৎ নতুন বাংলাদেশের রুপ রেখা

এতে বলা হয়, আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে- তেমনি সরকারও চাচ্ছে ১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে। ২. সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। ৩. সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে। ৪. বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন। ৫. যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। ৬. সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়বে। ৭. ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। ৮. দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। ৯. আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা (যেমন: ইন্টারনেট সেবা কখনো বন্ধ করা যাবে না) বাড়বে। ১০. দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না। ১১. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে।

লিফলেটের নিচে আরও বলা হয়, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ওপরের সবকিছু পাবেন। ‘না’ ভোট দিলে কিছুই পাবেন না। মনে রাখবেন, পরিবর্তনের চাবি এবার আপনারই হাতে।

লেখক, গণমাধ্যমকর্মী

মুত্তাসিমুর রহমান মোক্তার

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X