

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সমন্বিত আইন প্রয়োগ ও যৌথ কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে দক্ষিণ এশিয়া বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ নেটওয়ার্কের (SAWEN) প্রথম সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তঃদেশীয় ও সংঘবদ্ধ বন্যপ্রাণী অপরাধ ক্রমেই বাড়ছে। সীমান্ত, পরিবহন ব্যবস্থা, বাণিজ্যিক চ্যানেল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও আর্থিক ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধী চক্র বন্যপ্রাণী পাচার পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী জব্দ ও অপরাধী গ্রেপ্তারের মধ্যেই আইন প্রয়োগ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। এসব অপরাধের পেছনে থাকা সংগঠক, অর্থদাতা ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্ত, তদন্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে হবে।
প্রতিটি বন্যপ্রাণী জব্দের ঘটনাকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সুযোগ হিসেবে ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কোথা থেকে বন্যপ্রাণী এসেছে, কোন পথে পাচার হয়েছে, কারা জড়িত, কে অর্থায়ন করেছে এবং কোথায় পাঠানো হচ্ছিল—এসব তথ্য খুঁজে বের করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
অনলাইনভিত্তিক বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবিলায় অনলাইন মনিটরিং, সাইবার তদন্ত ও ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বড় ধরনের বন্যপ্রাণী অপরাধের ক্ষেত্রে আর্থিক তদন্ত, সম্পদ শনাক্তকরণ ও মানি লন্ডারিংবিরোধী ব্যবস্থা ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া বন্যপ্রাণী ফরেনসিক, ডিএনএ বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ফরেনসিক ও ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন পরিবেশমন্ত্রী।
উদ্ধার, পুনর্বাসন ও জব্দ করা জীবন্ত বন্যপ্রাণীর প্রত্যাবাসনেও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
SAWEN স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০২৬-২০৩০ প্রসঙ্গে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রস্তাবিত কৌশলগত পরিকল্পনা এসব অগ্রাধিকারকে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য আঞ্চলিক কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ এমন একটি পরিকল্পনাকে সমর্থন করে, যেখানে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, আইন প্রয়োগ, ফৌজদারি বিচার, ডিজিটাল ও আর্থিক তদন্ত, বিজ্ঞান ও ফরেনসিক, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বন্যপ্রাণীর চাহিদা কমানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, SAWEN-এর প্রথম সাধারণ পরিষদ রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। সদস্য দেশগুলো আরও শক্তিশালী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা, বাস্তবভিত্তিক যৌথ কার্যক্রম এবং বন্যপ্রাণীর জন্য হুমকিস্বরূপ অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার অভিন্ন অঙ্গীকার নিয়ে কাঠমান্ডু থেকে ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ SAWEN-এর সদস্য দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একটি শক্তিশালী, আন্তঃসংযুক্ত ও কার্যকর আঞ্চলিক বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রস্তুত বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন পরিবেশমন্ত্রী।
সম্মেলনে নেপালের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার দোল প্রসাদ আরিয়াল, নেপালের কৃষি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী গীতা চৌধুরী, SAWEN-এর মহাসচিব ড. কৃষ্ণ প্রসাদ আচার্য এবং নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



