

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গত ১৮ আগষ্ট শুধুমাত্র নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়া ৩টি শহরে 'মহিলা বাস (পিংক বাস) সার্ভিস' চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) 'মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িতে চলছে পিংক বাস সার্ভিস' শিরোনামে প্রচারিত সংবাদের প্রসঙ্গে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাখ্যা দিয়েছে বিআরটিসি। বিআরটিসি জানায়, নতুন চালু হওয়া এই 'পিংক বাস সার্ভিস' নিয়ে নারী যাত্রীরা যেমন উচ্ছ্বসিত হয়েছেন, তেমনিভাবে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সরকারের এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। আশাতীত মিডিয়া কাভারেজ পাওয়ায় পিংক বাস সামাজিক আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে, সার্ভিস টি নিয়ে ব্যাপক জনপ্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে যা আমাদের নিকট নিঃসন্দেহে আনন্দের ও গর্বের। ‘সেবাই আদর্শ’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিআরটিসি সেবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইতিবাচক, গঠনমূলক যে কোনো আলোচনা-সমালোচনাকে সর্বদা স্বাগত জানায়।
কিন্তু চলতি সপ্তাহে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের 'মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িতে চলছে পিংক বাস সার্ভিস!' শিরোনামে করা প্রতিবেদনের সূত্র ধরে আরও বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম একই সংবাদ প্রকাশ করেছে- যা বিআরটিসি'র নজরে আসে। প্রতিবেদনে প্রতিবেদক বাস প্রস্তুতকারী কোম্পানির দেওয়া 'প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল' কে বাসের 'প্রকৃত আয়ুষ্কাল' আখ্যা দিয়ে ভুলভাবে তথ্য উপস্থাপন করেছেন- যা সরকারের মহতী উদ্যোগ ও বিআরটিসি’র ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে!
দেশের সড়কে যান চলাচলের অনুমোদন, নিরাপদ সড়ক বিনির্মাণ ও সুষ্ঠু গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সার্বিক ব্যবস্থাপনার তদারকি করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটি যানবাহনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা, ফিটনেস সনদ ও সার্বিক অনুমোদন প্রদান করে থাকে- যার মাধ্যমে একটি যান সড়কে চলাচলের বৈধতা পায়। সড়ক পরিবহনে রাষ্ট্রের একমাত্র সংস্থা হিসেবে বিআরটিসিও সরকারের সমস্ত আইন-কানুন মেনেই যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবা দিয়ে থাকেন। বিআরটিসি আরও জানায়, বাস মিনিবাসের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ইকোনমিক লাইফ হলো ২০ (বিশ) বছর (সূত্র: সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ স্মারক নং- ৩৫.০০.০০০০.০২০.০৬.০৪১.২১-২৭৩)। পিংক বাস বহরে থাকা প্রতিটি বাসেরই অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল রয়েছে এবং ১৪টি বাসেরই বিআরটিএ কর্তৃক প্রদত্ত 'ফিটনেস সনদ' ২০২৭ সাল পর্যন্ত আপডেট করা। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, আয়ুষ্কাল শেষ হলেও নতুন রঙ ও মোড়ক দিয়ে বাস ‘পিংক বাস সার্ভিস’-এর বহরে নামানো হয়েছে।
সার্ভিসটি উদ্ভোধনের আগে ও পরে বিআরটিসি ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি, প্রেস রিলিজ দেওয়া হয়েছে, কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এই বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সাক্ষাৎকার দেওয়া হয়েছে- বিআরটিসি কোথাও দাবি করেনি যে, নতুন বাস দিয়ে 'পিংক বাস সার্ভিস' শুরু করা হয়েছে। সক্ষমতার মধ্যে পুরাতন গাড়িগুলো নিজস্ব কারখানায় প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন করে, 'ফিটনেস সনদ' নিয়েই বিআরটিসি সার্ভিস পরিচালনা করে আসছে। পিংক বাস বহরে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ১০০টি ইভি বাস যুক্ত হবে- যা ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান, এই বিষয়েও সার্ভিস উদ্ভোধনের দিনই গণমাধ্যমে বলা হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের এই সময়ে রাষ্ট্রের 'চতুর্থ স্তম্ভ' হিসেবে স্বীকৃত গণমাধ্যম সাংবাদিকতার 'পেশাগত নৈতিকতা' মেনে দায়িত্বশীল আচরণ করবে- এমনটাই প্রত্যাশা রাখি। সেইসাথে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই সে সমস্ত গণমাধ্যমকে- যারা 'পিংক বাস সার্ভিস' শুরু হওয়ার পর থেকেই সরকারের মহতী উদ্যোগ, আমাদের নারী চালক ও বিআরটিসির প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে যাচ্ছেন, নানান পরামর্শ ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে আমাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।

