রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৯ এএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে আবারও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সচিব কমিটির সুপারিশমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত হলেও শেষ মুহূর্তে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে।

একই সঙ্গে সরকারের চলমান আর্থিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টিও পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থাৎ শতভাগ ভাতা দাবি করায় নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গেজেট প্রকাশের আগে বিষয়টি আরও পর্যালোচনার নির্দেশনা এসেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। ফলে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের পর্যালোচনা শুরু করতে যাচ্ছে অর্থ বিভাগ।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী এক অনির্ধারিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে নবম পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন খাতের বেতন কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় কমিশনের প্রতিবেদন ও জুডিশিয়াল সার্ভিসের দাবিগুলো আরও পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বেতন কাঠামোয় কোনো ধরনের বৈষম্য বা অসঙ্গতি থাকলে তা দ্রুত সমাধানের কথাও বলা হয়েছে।

এদিকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের বর্তমান আর্থিক সক্ষমতাও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ও আর্থিক চাপ এবং নতুন বেতন কাঠামোর কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এসব কারণে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময় আরও কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও সরকারের ভেতরে আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামো নির্ধারণে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি শিগগিরই বৈঠকে বসবে। এর আগে গত ১২ আগস্ট বৈঠক ডাকা হলেও কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি না থাকায় তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

কমিটির প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো নিয়েও আলোচনা হবে। বিশেষ করে বিচারকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত কত অর্থ প্রয়োজন হবে এবং সেই অর্থ কীভাবে দেওয়া সম্ভব-এসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।

অন্যদিকে, গত ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে নতুন প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ রয়েছে। পাশাপাশি নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাবও করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরের বছর বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার বিষয়টি প্রস্তাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি সামনে আসায় নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে গেজেট প্রকাশের আগে আরও এক দফা পর্যালোচনা শেষে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর সরকারি চাকরিজীবীদের।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank