রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের কারণ ব্যাখ্যা দিলেন নাহিদ

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
expand
নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

পরিকল্পনাহীনতা, জ্বালানি ক্রয়ে সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং বেসরকারিকরণের নামে ব্যবসায়িক গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার নীতির কারণেই দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিপহুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান সংকট যুদ্ধের কারণে নয়; বরং সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা ও ভুল নীতির ফলেই সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে বিএনপি সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে ‘অলিগার্কদের সরকারে’ পরিণত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ইশতেহার ঘোষণার সময় বিএনপি বলেছিল, 'লুটপাট নয়, উৎপাদন; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা।' তাদের দাবি ছিল, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। ছয় মাস পরেই নিজের প্রতিশ্রুত চুক্তি ভেঙে সরকার ঠিক বিপরীত পথে হাঁটছে। প্রাথমিকভাবে জ্বালানী আমদানি ও বিদ্যুৎ বিতরণে বেসরকারিকরণের নামে অলিগার্ক বসাতে হীন উদ্যোগ নিয়েছে।

বিএনপি সরকার ইশতেহারের উল্টো পথে হাঁটছে দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল যে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সব কালাকানুন বাতিল হবে। কারণ পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার এই দায়মুক্তির আড়ালেই কুইক রেন্টাল ও আইপিপি'র নামে ক্যাপাসিটি চার্জ দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছিল। বিএনপি তখন এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। অথচ বিএনপি এখন নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতিই মানছে না।

তার দাবি- বাস্তবে, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস বড় পরিমাণে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও নিজস্ব ব্যবস্থায় বাজারজাতের অনুমতি চেয়ে সরকারকে চিঠি দেয়। এরপরই ৬ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বিপিসিকে মাত্র ৪ দিন সময় দিয়ে ১০আগস্টের মধ্যে 'বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা ২০২৬' র খসড়া জমা দিতে বলে। এর বিপক্ষে মত দিলে বিপিসি চেয়ারম্যানকে অন্যায় ভাবে সরিয়ে দেয়া হয়।

একটি জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নীতিমালার খসড়ার জন্য 'চারদিন' হচ্ছে বিএনপির সুসাশনের নমুনা বলে তিনি তাচ্ছিল্য করে বলেন, ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদের জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে '১০ দিনে' নামিয়ে এনেছে। ফলে বড় বড় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীরা অংশ নিতে পারবে না, দরদাতা সংকট তৈরি হবে, দাম বাড়বে, সিন্ডিকেটের দরজা খুলে যাবে।

নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন করেন, যদি অংশীজনদের মতামত নেওয়াই উদ্দেশ্য হতো, তবে চার দিনের আলটিমেটাম কেন? তদন্ত কমিটিতে দুই দিন কেন? বিপিসির চেয়ারম্যান অপসারণে এই তাড়াহুড়ো কীসের ইঙ্গিত?

বিএনপি সরকারের সঙ্গে লোডশেডিং শব্দটি আবার সমার্থক হয়ে উঠছে অভিযোগ করে এনসিপির এই মুখপাত্র আরও বলেন, ২০০১-২০০৬ মেয়াদেও আমরা দেখেছি উৎপাদন না বাড়িয়ে বিতরণ লাইন বাড়ানোর অসমন্বিত 'উন্নয়ন'। দুই দশক পরেও শিক্ষা নেয়নি বিএনপি।

তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরার মতো অর্থের যোগান নেই। এটি অসত্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের গ্রস রিজার্ভ প্রায় ৩৬.৯ বিলিয়ন ডলার, বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার। রেমিট্যান্স প্রবাহও শক্তিশালী, ১ থেকে ৮ আগস্টেই এসেছে ৯১৫ মিলিয়ন ডলার, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২.৯শতাংশ বেশি।

বাস্তবে ডলার আছে। নেই ক্রয়ের টাইমলি শিডিউল। সময়সূচি ভিত্তিক ক্রয় পরিকল্পনা। একইসঙ্গে সরকারের আর্থিক সংকটের তথ্যকে অসত্য বলেও দাবি করেন নাহিদ ইসলাম।

পোস্টে তিনি ‘উৎপাদিত সংকট’ সংকট উপশিরোনামে উল্লেখ করেন, বিষয়টি এমন নয় যে বিপিসিকে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল আর বিপিসি ব্যর্থ হয়েছে। বরং বিপিসিকে ক্রয় শিডিউলের অনুমোদনই সময়মতো দেওয়া হয়নি।

প্রশ্ন হচ্ছে, পছন্দের সরবরাহকারীর ব্যাপারে চাপ দিতে গিয়েই কি আমদানির শিডিউল বিপর্যস্ত হয়েছে?

পোস্টে তিনি একটি ছক তৈরি করে দেখান এভাবে, সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে না দাও → সংকট তৈরি হোক → বলো 'সরকারি খাত পারছে না' → বেসরকারি অলিগার্কের হাতে লাইসেন্স তুলে দাও।

বিদ্যুৎ বিতরণেও একই কৌশল। ভুতুড়ে বিল ও জালিয়াতির অভিযোগ, তারপর বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারিকরণের যুক্তি বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে, পেছনে একটাই উদ্দেশ্য, কমিশন ও রেন্ট সিকিং বলেও তার দাবি।

এই মুহূর্তে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিং চলছে দাবি করে বিরোধী দলীয় চিপহুউপ আরও জানান, ১০ আগস্ট ২০২৬ রাত ১টায় ৩,৭৫৭ মেগাওয়াট, তার আগের রেকর্ড ৯ আগস্ট ২০২৬ ৩,৬৭১, তারও আগে ৩ আগস্ট ৩,৫১২ মেগাওয়াট। ৪১ টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ। ভারত থেকে আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। গ্রামাঞ্চলে দিনে ১০-১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ওপর সরকারের দায় চাপানোকে অযৌক্তি জানিয়ে তিনি বলেন, পিজিসিবির তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে এপ্রিল মাসেও লোডশেডিং পরিস্থিতি নাজুক ছিল।

এপ্রিল' ২৬- সর্বোচ্চ দৈনিক লোডশেডিং ৪১ হাজার মেগাওয়াট ঘন্টা

জুলাই' ২৬- সর্বোচ্চ দৈনিক লোডশেডিং ৩২ হাজার মেগাওয়াট ঘন্টা

আগস্ট' ২৬- সর্বোচ্চ দৈনিক লোডশেডিং ৫৩ হাজার মেগাওয়াট ঘন্টা

অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর আগেই সংকট তৈরি হয়ে গিয়েছিল। যুদ্ধ একমাত্রকারণ নয়।

২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (FSRU) আগুন লাগে, দৈনিক ৫১ কোটি ঘনফুট গ্যাসসরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় বলে নাহিদ বলেন, আংশিক সরবরাহ ফিরে আসে ৫ আগস্ট, অর্থাৎ পনেরো দিন। এখানে আমরা দুটি প্রশ্ন তুলছি। এক, রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি ছিল কি না তার স্বাধীন তদন্ত হয়েছে কি? প্রতিবেদন কোথায়? দুই, দেশের গ্যাস সরবরাহের এক-চতুর্থাংশ যে দুটি টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল, তার একটি বসে গেলে পনেরো দিন লাগলো আংশিক পুনরুদ্ধারে, এই ডিজাস্টার রিকভারি সক্ষমতা কি একটি রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য?

তিনি বলেন, এলপিজির অভিজ্ঞতা আমাদের সামনেই আছে। বেসরকারি আমদানিকারকদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার পর সিলিন্ডারের দাম কোথায় ঠেকেছে, প্রতিটি পরিবার নিজের পকেটে টের পেয়েছে। এখন ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনে ঠিক একই পথে হাঁটার আয়োজন চলছে। ডিজেলের দাম বাড়া মানে শুধু গাড়ি ভাড়া বাড়া নয়; সেচের খরচ বাড়ে, পরিবহন খরচ বাড়ে, বাজারের প্রতিটি পণ্যের দামে তার ছাপ পড়ে।

নাহিদ বলেন ‘জুলাই বিপ্লবে আমাদের অভিযোগ কেবল একটি দলের বিরুদ্ধে ছিলনা। ছিল একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, যে ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হতো কয়েকটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থে, খেসারত দিত সাধারণ মানুষ। যে ব্যবস্থায় ব্যাংক লুট হতো, বিদ্যুতের দাম নির্ধারিত হতো ইচ্ছামতো, আর প্রশ্ন তুললে দায়মুক্তি আইন দেখানো হতো।’ একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, মানুষ রক্ত দিয়েছে শাসক বদলানোর জন্য নয়, ব্যবস্থা বদলানোর জন্য।

‘বাস্তবে আমরা দেখছি, বিএনপি সরকারের হাতে রাষ্ট্র এখন আর জনগণের প্রতিনিধি নয়, গুটিকয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর ব্যবস্থাপক মন্তব্য করে বলেন, বিএনপির হাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সমস্যার কার্যকর কোনো সমাধান নাই। বিএনপি'র পরিকল্পনা ও পলিসিই বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের নতুন সমস্যা সূত্র।’

আমরা শুধু সমালোচনা করতে চাই না, সংকটের সুনির্দিষ্ট সমাধানও দেখাতে চাই বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এটি মুনাফা লোটার হাতিয়ার হতে পারে না, দরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি প্রস্তাবনা পেশ করেন সরকারের কাছে-

১. তড়িঘড়ি বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া স্থগিত করুন। উন্মুক্ত অংশীজন আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিন।

২. আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা ১০ দিন থেকে ৪২ দিনে ফিরিয়ে আনুন। কম দরদাতা মানে বেশি দাম, এটি প্রাথমিক অর্থনীতি।

৩. বিপিসির সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ক্রয় শিডিউল অবিলম্বে অনুমোদন করুন এবং সঠিকভাবে ডিমান্ড স্ট্যাডি করে আগামী চার থেকে ছয়টি অর্থনৈতিক প্রান্তিকের (কোয়ার্টার) ক্রয় ক্যালেন্ডার প্রকাশ্যে ঘোষণা করুন।

৪. মহেশখালী FSRU দুর্ঘটনার স্বাধীন কারিগরি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করুন।

৫. গ্যাস বরাদ্দে ডেটা-ভিত্তিক অগ্রাধিকার সূচক চালু করুন, জ্বালানি-দক্ষ, রপ্তানিমুখী ও শ্রমঘন শিল্প আগে। কে আগে পাবে, কে পরে, সেটি স্বচ্ছ স্কোরে নির্ধারিত হোক, তদবিরে নয়।

৬. বিপিসির একচেটিয়া ভাঙতে বিদ্যমান মনোপলির বিপরীতে নতুন একক মাফিয়া মনোপলি নয়। প্রতিযোগিতামূলক উন্মুক্ত দরপত্র, একাধিক অংশীদার, স্বচ্ছ জবাবদিহি এবং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে রেখে আগাতে হবে।

৭. পরিশোধিত তেল আমদানির অনুমতি নয়, অপরিশোধিত তেল আমদানির অনুমতি দিন, শর্ত থাকুক নিজস্ব রিফাইনারি স্থাপনের। শীর্ষ শিল্প গ্রুপের সবাই সমানভাবে আমদানির সুযোগ পাবে, নিজেদের জন্য এবং যারা ডিস্ট্রিবিউশান নেটওয়ার্ক বানাতে পারবে। এতে ডলার সাশ্রয়হবে, দেশে সক্ষমতা তৈরি হবে। পাচার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এলসি নিয়ন্ত্রণ রাখুন। ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করুন।

৮. ক্যাপাসিটি চার্জের পূর্ণ নিরীক্ষা করুন। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রকৃত বিনিয়োগ ও তার বিপরীতে মোট প্রাপ্ত অর্থ মিলিয়ে দেখুন, যারা ইতিমধ্যেই উদ্বৃত্ত তুলে নিয়েছে, তাদের পেমেন্ট বন্ধ করুন।

৯. আইপিপি বকেয়া নিষ্পত্তিতে আঞ্চলিক মডেল দেখুন। ধাপে ধাপে দায় গ্রহণের বিনিময়ে বিতরণ সংস্থাগুলোর জন্য সিস্টেম লস কমানো ও আদায়-দক্ষতা বাড়ানোর বাধ্যতামূলক লক্ষ্যমাত্রা দিন।

১০. বিদ্যুৎ বিলে স্মার্ট মিটারিং বাধ্যতামূলক করুন, ম্যানুয়াল রিডিং আর নয়। বিদ্যুতে সিস্টেম লস প্রায় ৯ শতাংশ, গ্যাসে ৬.৩৮ শতাংশ। সিস্টেম লস চুরির সমানুপাতিক, এবং এই চুরিতে বিদ্যুৎ বিভাগের নিচ থেকে উপর পর্যন্ত বহু স্তর জড়িত।

১১. এলপিজির দাম মানুষের সাধ্যের মধ্যে ফিরিয়ে আনুন। বিদ্যমান মনোপলি ভাঙতে নতুন প্লেয়ার আনুন। বাসাবাড়ির চুরি বান্ধব গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার মাইগ্রেশন টার্গেট নির্ধারণ করুন।

১২. আমাদের মাত্র দুটি FSRU, দুটিই মহেশখালীতে, এটা অপর্যাপ্ত। ৩য় ও ৪র্থ এলএনজি টার্মানাল স্থাপনা করুন। পছন্দের পক্ষ খুঁজতে সময়ক্ষেপণ বন্ধ করুন।

১৩. সাগরে অনুসন্ধানে পিএসসি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আনুন। কোরিয়ান পস্কোসহ দীর্ঘ সিদ্ধান্তহীনতায় যারা চলে গেছে, তাদের ফেরাতে সরকারি পর্যায়ে আলোচনায় বসুন। এ কাজে অভিজ্ঞ ট্রেড নেগোশিয়েটর নিয়োগ দিন, অনভিজ্ঞ কোনও কমিটির পরামর্শে নয়।

১৪. বাপেক্সকে বিনিয়োগ দিন, কিন্তু বাস্তববাদী হোন। প্রযুক্তি ও গবেষণার ঘাটতি বাপেক্স একা পূরণ করতে পারবে না। রিজার্ভার ম্যানেজমেন্ট, এক্সপ্লোরেশন ও ডেভেলপমেন্ট কূপ খননে সক্ষম বিদেশি অংশীদার আনুন।

১৫. সোলারকে ডেমোক্রেটাইজ করুন। ব্যক্তি উদ্যোক্তা ও ভোক্তা নির্ভর করেদিন। প্যানেল, কনভার্টার, ব্যাটারি ও অ্যাপ্লায়েন্সের শুল্ক শূন্যে আনুন, সোলার হোম, মিনি, মিডি, লার্জ সব পর্যায়ে। বড় ব্যবসায়ীদের তোষণ করে হাউসহোল্ড সোলারের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক রাখবেন না। নতুন সংযোগের একটি বড় অংশ সোলারকেন্দ্রিক করুন, নেট মিটারিংও ফিড-ইন কাঠামো স্পষ্ট করুন, নির্দিষ্ট আয়তনের বেশি বাণিজ্যিক ও শিল্প ভবনের ছাদে সোলার বাধ্যতামূলক করুন। এই কাজে বাংলাদেশ অন্তত দশ বছর পিছিয়ে আছে। ২০৩০ এর মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করুন।

জ্বালানি খাত জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। এখানে ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দেয় কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ছোট ব্যবসায়ীসহ দেশের আঠারো কোটি মানুষ, যারা কোনো কমিশন পান না বলেও তিনি পোস্টে অভিযোগ করেন।

পোস্টের শেষে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারের প্রথম দায় জনগণের প্রতি, কোনো ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রতি নয়। এই সহজ কথাটি পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার ভুলে গিয়েছিল। বিএনপি সরকারও ভুলে যাওয়ার পথে। মাফিয়া তোষণের মূল্য বাংলাদেশ একবার দিয়েছে, আর নয়। এবারের ভুল, ব্যর্থতা ও অলিগার্ক তোষণের নীতি এনসিপি রুখে দিতে দাঁড়াবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank