

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মন্ত্রিসভা সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি ইতোমধ্যে প্রস্তাবটির নীতিগত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলে চলতি সপ্তাহেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সব গ্রেডে একই হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়নি।
সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিম্ন বেতন কাঠামোর কর্মীদের আয় বৃদ্ধিতে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি উপস্থাপনের পর আলোচনা ও অনুমোদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে নতুন পে স্কেল কার্যকরের আগে প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও পর্যালোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, নবম পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে। দ্বিতীয় ধাপে ভাতাসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত বুধবার মন্ত্রিসভা সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী খসড়ার বিভিন্ন বিষয় পরিবর্তন বা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এমনকি পে স্কেল কত ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে নবম পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে নবম পে স্কেল চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব জটিলতা নিরসনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার।
বেতন বৃদ্ধির বড় প্রস্তাব
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল চালুর পর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট হলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন পে স্কেলের দাবি ও প্রয়োজনীয়তা দিন দিন আরও জোরালো হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
এখন সচিব কমিটির চূড়ান্ত করা খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের অপেক্ষায়। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পরই নবম পে স্কেলের বাস্তবায়ন কাঠামো, বেতন বৃদ্ধির হার এবং কার্যকর হওয়ার সময়সূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে।


